[X]

কিছু বিদেশী ও দেশী সাংবাদিক দেশবিরোধী অপপ্রচারে জড়িত : রুহুল কবির রিজভী

'বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, দেশের রাজনীতি, বিরোধী দল ও দলের নেতানেত্রীসহ নানা বিষয়ে অলীক মনগড়, ভিত্তিহীন কাব্যকাহিনী রচনা করে দেশে-বিদেশে অপপ্রচার দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছেন একজন বিদেশী সাংবাদিক, যার নাম সুবীর ভৌমিক। এই অপপ্রচার ও মিডিয়া সন্ত্রাস চালাতে উক্ত বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে দেশীয় কিছু সাংবাদিকও জড়িত' বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ।

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। যথাসময়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে আসার জন্য সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

বন্ধুরা,
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব, দেশের রাজনীতি, বিরোধী দল ও দলের নেতানেত্রীসহ নানা বিষয়ে অলীক মনগড়, ভিত্তিহীন কাব্যকাহিনী রচনা করে দেশে-বিদেশে অপপ্রচার দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছেন একজন বিদেশী সাংবাদিক, যার নাম সুবীর ভৌমিক। এই অপপ্রচার ও মিডিয়া সন্ত্রাস চালাতে উক্ত বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে দেশীয় কিছু সাংবাদিকও জড়িত। সুবীর ভৌমিক নিজ দেশসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেন। কখনো বাংলাদেশে এসে অথবা নিজ দেশ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইন্সটিটিউশন, বিরোধী নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে অবাস্তব ষড়যন্ত্রগাঁথা গল্প তৈরী করে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী তা প্রচার করছেন। দেশ-বিদেশের মানুষের মধ্যে একটা ভয়ানয় বিভ্রান্তি তৈরী করাই এই অপপ্রচারের উদ্দেশ্য। মিয়ানমারের ইয়াংগুন থেকে প্রকাশিত ও প্রচারিত মিজ্জিমা ইংলিশ সাপ্তাহিকে খুবই চাঞ্চল্যকর খবর প্রচার করেছেন। সেটি হলো যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জীবননাশের আরেকটি অপচেষ্টা। বিষয়টি অসত্য বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে নাকচ করে দেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগেও তিনি লন্ডনে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছেন বলে গালগল্প প্রচার করেছেন। এই সমস্ত গল্প রচনার মূল টার্গেটটি কী তা সহজেই বোঝা যায়। সুবীর ভৌমিক তার লেখায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের ষড়যন্ত্রকারীরাই প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। গাঁজাখুরী মিথ্যা গল্প সাজিয়ে তারপর সেটিকে বিভিন্ন মিডিয়ায় রিসাইকেল করে এরা বাংলাদেশের রাষ্ট্র, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ভেঙ্গে ফেলতে চাচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণের রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভুতি সুবীর ভৌমিক চক্ররা মেনে নিতে পারছে না। আজকে রোহিঙ্গা প্রশ্নে জনগণের যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে তা নজীরবিহীন। জনগণ তাদের শক্তি, সামর্থ ও সংগতি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রান তৎপরতায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী যখন গুরুদায়িত্ব পালন করছে তখন সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে চৌকষ ইউনিট এসএসএফ কে টার্গেট করার মূল উদ্দেশ্য বুঝতে কারোই কষ্ট হয় না।
সুবীর ভৌমিক এর আগেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্ন তুলেছেন। সুবীর ভৌমিক যেহেতু বিদেশী নাগরিক সেহেতু তিনি বাংলাদেশের আদালতের আওতায় পড়বেন না। যেহেতু আওতায় পড়বেন না সেজন্য অবাধে নিজ দেশ থেকে আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঠাকুরমার ঝুলির বানানো গল্প রচনা করে সেটি অপপ্রচার করছেন। এই সমস্ত লেখালেখি যে সম্পূর্ণরুপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা জানতে কারো বাকী নেই।  যে সেনাবাহিনীর মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম অবদান, যে সেনাবাহিনীর সেদিনের মেজর জিয়া ৭১ এ স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে গোটা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত করেছিলেন, যে সেনাবাহিনী আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক, সেই সেনাবাহিনীর মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার জন্যই সুবীর ভৌমিকরা উঠেপড়ে লেগেছে। তবে সবচেয়ে দু:খের বিষয়-বিদেশী এই সাংবাদিকের মিথ্যাচারকে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচারের বাজারজাত করছেন আমাদের দেশের গণমাধ্যমের হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিক। স্বর্গ থেকে যাতে বিদায় না নিতে হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর আরো বেশী নৈকট্য লাভ করতেই এদেশের কিছু সাংবাদিক সুবীর ভৌমিকের সিন্ডিকেটে যোগ দিয়েছেন। সুবীর ভৌমিক ও তাদের এদেশীয় দোসরদের মূল টার্গেট হচ্ছে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তির বিষোদগার অব্যাহত রেখে জনগণের মধ্যে একটা বিরুপ ভাবমূর্তি তৈরী করা। এজন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানামূখী ষড়যন্ত্রের কাহিনী রচনা করে সেটি প্রচার করা হচ্ছে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর বেশী বেশী সুনজরে থাকার জন্য। কিন্তু ওদের যুগদৃষ্টি নেই বলেই অপপ্রচারের কৌশল অবলম্বন করেছেন। জনগণ আজ বিস্মিত, কিভাবে সুবীর ভৌমিকের মতো রহস্যজনক, সন্দেহভাজন ব্যক্তি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে অবাধে যাতায়াত করেন এবং স্থানীয় কিছু মানুষের সাথে টিম গঠন করে বিএনপি বিরোধী অভিযানে লিপ্ত থাকে।

বন্ধুরা,
বর্তমানে বাংলাদেশে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ নেই। ব্যাংকে সুদের হার কমতে কমতে একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। ব্যাংকে টাকা রাখলে এখন নামমাত্র সুদ মেলে। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় এই সুদহার কিছুই নয়। এ জন্য অনেকেই এখন টাকা ব্যাংকে রাখছে না। ফলে আগের মতো বাড়ছে না আমানত। এর চেয়েও উদ্বেগজনক খবর হলো, কম সুদেও ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ আমানত পাচ্ছে, সেটাও ঋণ হিসেবে বিতরণ করতে পারছে না। নতুন করে বিনিয়োগ চাহিদা না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দেশে রেমিটেন্স প্রবাহ একেবারেই কম। রফতানী আয়ও দিন দিন কমে যাচ্ছে। সরকারের প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা সাত দশমিক পাঁচ পারসেন্ট হলেও বিশ্বব্যাংক বলছে প্রবৃদ্ধির হার ছয় দশমিক চার পারসেন্টের ওপরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সরকারের জাতীয় অর্থনীতিতে লুটপাটের নীতির কারণেই এখন সাধারণ জনগণকে এর খেসারত দিতে হচ্ছে। অর্থনৈতিক সেক্টরে কালো ছায়া নেমে এসেছে।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবিলায় বিএনপি না থাকলেও সমস্যা নেই। কারণ এই ইস্যুতে এখন জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে।’

আমি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-ওবায়দুল কাদের সাহেবরা জাতীয় ঐক্য চাইবেন না, কারণ তারা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চান না। রোহিঙ্গা নিয়ে রাজনীতি করে তারা আরো বেশ কিছুটা সময় ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় কী না সেই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এখন রোহিঙ্গা ইস্যুটাকে  কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গাদের এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে কুটনৈতিক উপায়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কোন উদ্যোগ গ্রহণে তৎপর নয় সরকার। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের ফেরা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। এটা সরকারের চরম ব্যর্থতা।

বন্ধুরা,
গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাহবাগ থানা বিএনপি নেতা জাকির হোসেন বাবুকে একটি অনুষ্ঠান থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আমি তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবী করছি।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫