মা-বাবা ও স্বজন হারা ৬ হাজার রোহিঙ্গা শিশু !

    মাত্র ৪ বছর বয়সের ছোট শিশু আরমান। বাবা মায়ের কোলে আদর
ভালবাসায় দিন কেটেছে ছিল বেশ। কিন্তু
মিয়ানমারের সেনাদের নৃশংসতা কেড়ে নেয়
শিশুটির স্নেহ , মমতা আর মায়ের
ভালবাসা।
মমতাময়ী মা, সন্তানকে বাঁচাতে কোল
থেকে নামিয়ে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে
বের করে দেয়। যেন সন্তানের গায়ে আঁচড়
না লাগে। কিন্তু বুঝতে পারেনি যে
চিরদিনের জন্য হারাতে হবে মায়ের কোল।
হারাতে হবে বাবার আদর আর ভালবাসা।
মিয়ানমারের সেনারা আরমানের বাবাকে
গলা কেটে হত্যা করে। মাকে ধর্ষণ করে।
শুধু তাই নয়। আগুনে পুড়িয়ে তার মৃত্যু
নিশ্চিত করে সেনারা। করুণ এ দৃশ্যের
বিভীষিকা কি কখনও ভুলতে পারবে ছোট্ট
শিশু আরমান? ঠিকমত কথা না বলতে
পারলেও যতটুকু বুঝে তাতেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না।
মায়ের কোল আর বাবার কাঁধ ছিল তার
সবচেয়ে ভাললাগার জায়গা। মায়ের হাতে
ভাতের লোকমা আর কোনদিনও খেতে
পারবে না সবহারা শিশু আরমান। টেকনাফে
খোলা আকাশের নিচে হাঁটছে আর কাঁদছে
শিশুটি। কখনও চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে
শরীরে, কখনও বা হাত দিয়ে মুছে ফেলছে।
অবুঝ শিশুটির এ করুন কাঁন্না কি ফিরিয়ে দিতে
পারবে তার বাবা-মাকে?
করুণ এ বাস্তবতা কোন সিনেমা বা
নাটকের গল্প নয়। এটি রোহিঙ্গা শিশু
আরমানের জীবনের নিষ্ঠুর বাস্তবতা।
মায়ের ভালবাসার কোল, বাবার আদরের
কাঁধ ছেড়ে ছুটতে না চাইলেও মিয়ানমারের
সেনাবাহিনী তাকেও চলচ্চিত্রের গল্পের
মতোই দেশান্তরী করেছে নির্মমভাবে।
সীমানা-দেশ না বুঝলেও ঠিকই বুঝে গেছে
পৃথিবীর আলোতে দেখা হবে না তার মা-
বাবার সাথে। আম্মু বলে ডাকতে পারবে না
কাউকে। ডাকতে পারবে না বাবাকেও। গায়ে
ছেঁড়া কাপড় আর চোখ-মুখ দেখে বোঝা
যায়, ক্ষুধায় কাতর আরমান। কিন্তু
এতটুকু খাবারও জোটেনি কপালে। তাতে
কষ্ট বা দু:খ নেই ছোট্ট শিশুটির।
খাবার নয়, বারবার এদিক-ওদিক খুঁজছে
মা-বাবাকে। নদীর ওপারে আগুন দেখে
বোঝা যায় কতটা নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ
চলছে । নাফ নদীর ঢেউ আরমানকে বলে
যায়, তোমার মা-বাবা নদীতে নৌকায়
উঠতে পারেনি। হয়তো সেদিকে তাকিয়ে
চোখের জল গড়িয়ে পড়তেই থমকে যায়
নাফ নদী। তবু বন্ধ হয় না সহিংসতা।
নৌকা থেকে নেমে আসা মানুষগুলো
আরমানের পাশ দিয়ে চলে যায়। যে যার
মতো করে।কেউ তাকায় না তার দিকে।
প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে
আসা ৬হাজার এতিম শিশুর একজন আরমান।
কে নেবে যত্ন, কে করবে স্নেহ-আদর, কে
দেবে মমতা-ভালোবাসা?
শুধু আরমান নয়। তারমত হাজারো শিশুর
অবস্থা একই। এসব হতভাগা শিশুরা কি
পারবে জীবন যুদ্ধে এগিয়ে যেতে। পৃথীবির
আলোয় কি হতে পারবে আলোকিত হতে।
নাকি অজানা পথে কাটবে তাদের জীবন।
মিয়ানবারের সেনাদের সহিংসতা ও
হত্যাযজ্ঞ থেকে কোন রকমে ধেয়ে
বাংলাদেশে আসলেও এখন খাবার আর ওষুধ
অভাবে জীবন টিকে রাখাই দায়। বাংলাদেশ সরকার এই ৬হাজার এতিম রোহিঙ্গা শিশুকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার উদ্দ্যোগ নিয়েছে॥

No comments:

Post a Comment

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫