অনেকে পশুকে তারাতারি হত্যার জন্য জবেহের পর গলার হাড়ে ছুরি দিয়ে খুঁচা দেয়।

অনেকে পশুকে তারাতারি হত্যার জন্য জবেহের পর গলার হাড়ে ছুরি দিয়ে খুঁচা দেয়। অর্থাৎ স্পাইনাল কর্ড নষ্ট করে দেয়। এটা কি ইসলাম সম্মত? উত্তরঃ যেসব প্রাণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় তা হারাম। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন- “তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে... যা কন্ঠরোধে মারা যায়।” -কোরআন, সুরা মায়িদা, আয়াঃ৩ ---------------------- রক্ত প্রবাহিত করা আবশ্যিক। রাফি ইবনে খাদিজ থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন “যা রক্ত প্রবাহিত করে দেয় এবং যে প্রাণীর উপর জবেহের সময় আল্লাহর নাম নেয়া হয় তা তোমরা খেতে পার(হালাল)।” -সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায়ঃকিতাবুল জাবিহ(Hunting, Slaghtering):: হাদিস ৪০৬ ---------------------- অর্থাৎ এমন কিছু করা বৈধ নয় যা রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে অথবা শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ করে দেয়। এজন্য উত্তমভাবে জবেহ করতে হবে। কোনভাবেই স্পাইনাল কর্ডে(গলার অস্থিতে অবস্থিত) আঘাত করা যাবে না। জবেহের সময় কেবল জাগুলার ভেইন(গলার রগ) ও শ্বাসনালী কাটতে হবে। স্পাইনাল কর্ডে আঘাত করলে কি হবে? ব্রেইনের সাথে শরীরের যোগাযোগ হয় স্পাইনাল কর্ডের মাধ্যমে। স্পাইনাল কর্ডে আঘাত করলে এই যোগাযোগ নষ্ট হয়ে যায়। আর ব্রেইনের সিগন্যাল ব্যাতিত হার্ট পাম্পিং সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় পশু দ্রুত ফেইন্ট হয়ে যাবে,কোমায় চলে যাবে, হার্ট পাম্পিং বন্ধ হয়ে যাবে যার কারনে শরীর থেকে যথেষ্ট রক্ত বের হবে না। একইসাথে ফুসফুসও বন্ধ হয়ে যাবে। যা শ্বাসরোধ করে হত্যার মতই। এটাকে বলি বা শিরচ্ছেদের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ এটা জায়েজ নেই। জায়েজ না হবার দলিল হল উপরে উল্লেখিত কোরআনের আয়া ও হাদিস। ---------------------- স্বাস্থ্যগত সমস্যাঃ রক্ত রোগ জীবাণুর বাহক। রক্ত ঠিকমত বাহির না হলে মাংস সহজেই নষ্ট হয়ে যায়, স্বাদ কমে যায় এবং ঠিকমত রান্না না করলে মানবদেহে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। ------------------- অনেকে পশুর ছোড়াছুড়ি দেখে মনে করে এটা ব্যাথা পাচ্ছে। আসলে তা ঠিক নয়। জবেহের অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই এটা সেন্স হারিয়ে ফেলে। এটা তখন আর ব্যাথা পায় না। ছুড়াছুড়ি করে শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে যাওয়ার কারনে। এতে পেশির সংকোচন প্রসারণ ঘটে। অনেক সময় দেখবেন পশুর শরীরের কাটা অংশও নড়াচড়া করে। এটা অবশ্যই ব্যাথার জন্য নয়। বরং স্পাইনাল কর্ডে আঘাতের ফলে পশু প্রচন্ড ব্যাথা পায়। ---------------------- এই কাজের জন্য হুজুরগণ সাধারণত দুই ছুড়ি ব্যবহার করেন। একটা জবেহ করার জন্য। আরেকটি ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ড কাটার জন্য। প্রশ্ন থাকে রাসুলুল্লাহ (সঃ) ও সাহাবিরা কি এভাবে জবেহ করতেন? বহু হাদিস থেকে আমরা জানতে পাই রাসুলুল্লাহ (সঃ) একটি ছুড়ি দিয়েই পশু জবেহ করেছেন। বুখারি ও মুসলিমে এ ধরনের প্রচুর হাদিস রয়েছে। দুই ছুড়ি দিয়ে অদ্ভুত এই জবেহের সিস্টেম কে আবিষ্কার করল? আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষ আসলেই অনেক ক্রিয়েটিভ। তারা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভ না হলেও ধর্মের ক্ষেত্রে তাদের ক্রিয়েটিভিটির তুলনা হয় না। তারা ভুলে যায় ধর্মীয় বিধানে আমাদের ক্রিয়েটিভিটির স্থান নেই। সেটাকে বলে বিদআত। ---------------------------------------------------------------------------------------- জবেহের সময় কি বলতে হবে? জবেহের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ আবশ্যিক।-(কোরআন ৬:১২১) রাসুলুল্লাহ (সঃ) জবেহের সময় বলতেন “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার”।–বুখারী ও মুসলিম “যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এ ভক্ষণ করা গোনাহ। নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে-যেন তারা তোমাদের সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে যাবে।” -(কোরআন ৬:১২১) আদাম ইবন আবূ ইয়াস (র) আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা:) দুটি সাদাকালো বর্ণের ভেড়া দ্বারা কুরবানী করেছেন। তখন আমি তাঁকে দেখতে পাই তিনি ভেড়া দুটোর পার্শ্বদেশে পা রেখে “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” পড়ে নিজের হাতে সে দুটোকে যবাহ করেন। -সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬৮(কুরবানি) :: হাদিস ৪৬৫ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন নবম খন্ড, হাদিসঃ৫১৬৭) ---------------------------------------------------------------------------------------- # পশু জবেহের ক্ষেত্রে পশুকে সবচেয়ে কম কষ্ট দেয়া এবং ছুরি ধার করে নেয়া আবশ্যকঃ রাসুলুল্লাহ সঃ বলেন- "...যখন জবেহ করবে তখন উত্তম পন্থায় জবেহ করবে। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি ধার দিয়ে নেয় এবং তার জবেহকৃত জন্তুকে শান্তি প্রদান করে (অহেতুক কষ্ট না দেয়) ।" সহিহ মুসলিম, চতুর্থ খন্ড হাদিস নাম্বারঃ ৪৮৯৭ ও ৪৮৯৮। উত্তমরূপে পশু জবেহ করতে হবে।শ্বাসনালী সহ ধমনী ও শিরা কেটে দিতে হবে কিন্তু স্পাইনাল কর্ড অক্ষত রাখতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসুল সঃ নিষেধ করেছেন শয়তানের কুরবানিকে। এটা হল পশুর গলার কিছুটা কেটেই মৃত্যুর জন্য ছেড়ে দেয়া জাগুলার ভেইন বা গলার শিরা না কেটে। -আবু দাউদ, বইঃ১৫, হাদিস নাম্বারঃ২৮২৮ পশু জবাই করার পর সেই পশু সম্পূর্ণ মারা যাওয়ার আগেই চামড়া ছাড়ানো উচিৎ নয়। ------------------------------- কুরবানির ঈদে যেন পশু কুরবানি সঠিকভাবে হয় সেজন্য প্রচার করুন যেন যারা কুরবানি করবেন তাদের কাছেও বিষয়টা পরিষ্কার হয়। প্রয়োজনে আগে থেকেই এসব নিয়ে ভালো আলেমের সাথে আলোচনা করে নিন।

No comments:

Post a Comment

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫