এক মেয়ে সুইসাইড করেছে ভাত খেতে না পেয়ে।

এক মেয়ে সুইসাইড করেছে ভাত খেতে না পেয়ে।
পরিবারটার এতই অভাব যে মেয়ের সতকারের টাকাটাও এলাকাবাসী চাঁদা তুলে দিয়েছে। এসব শহুরে মানুষের কাছে আরব্য রজনীর গপ্পো লাগবে। ভাত একটা জিনিস হইল নাকি। এইটা না পাইয়া কেউ আত্বহত্যা করে? সাউথ আফ্রিকার ফটো জার্নালিস্ট কেভিন কার্টারের তোলা সুদানের দুর্ভিক্ষের একটি ছবি ৯৩ তে সারা দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ছবিটা ছিল দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত এক সুদানি মেয়ে অসহায় ভাবে ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে জাতিসংঘের ফুড ক্যাম্পের দিকে যাচ্ছে। আর মেয়েটির পেছনে রাস্তায় একটা শকুন বসে আছে মেয়েটির মৃত্যুর অপেক্ষায়। মরলে মেয়েটিকে খাবে বলে। কার্টারের তোলা এই ছবিটি আমাদের মত আরামে আয়েসে দিন কাটান মানুষদের উপলব্ধি করিয়েছিল " ক্ষুধার যন্ত্রনা কি" কার্টার এই ছবির জন্য পুলিতজার প্রাইজ পায়। কিন্তু তার ৩ মাসের মধ্যেই কার্টার কার্বন মনোক্সাইডে নিজেকে আটকে সুইসাইড করে। কার্টারের সুইসাইড নোটে লিখা ছিল। I am haunted by the vivid memories of killings and corpses and anger and pain...of starving or wounded children কার্টারের তোলা সেই ছবিটি তাদের কে একটা বড় শিক্ষা দেয় যারা মনে করে দুনিয়াতে তারাই সবচেয়ে কষ্টে আছে। পৃথিবীতে প্রতিদিন ২১০০০ মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রনায় মৃত্যুবরণ করে। প্রতি চার সেকেন্ডে একজন। কষ্ট কারে বলে আপনে কি জানেন? ভাতের অভাবে কিশোরীর সুইসাইডের নিউজটা ভাইরাল হওয়া উচিত ছিল হয়নি। চালের দাম এতই বেড়েছে কয়েকদিন পরে মানুষ কেজি হিসাবে না পট হিসেবে চাল কিনবে। মামা একপট চাল দেন। গুণে গুণে ভাত চড়াবে মায়েরা। খাইরে বসলে ভাতের গামলা না হোটেলে যেমন দেয় ,এক হাতা দুই হাতা তেমনি হিসেব কইরা দিবে। এখন দাম ৬০ টাকার উপরে। কোনদিন বাজার করা বাপটার সাথে বাজারে গেছেন? গেলে বুঝবেন আপনি যে ভাত নষ্ট করেন সে ভাত কেমনে আসে? ভাতের অভাবে আত্মহত্যা কথাটার মানে বুঝেন। ক্ষুধার যন্ত্রনায় মৃত্যু বুঝেন? বুঝবেন না। আপনারা অর্ধেক খাওয়া চিকেন ফেলে দেয়া , ভাত নষ্ট করাকে স্টাইল মনে করা ,আমার খেতে ভাল লাগেনা বলে খাবার নষ্ট করা পাবলিকরা কোনদিন বুঝবেন না। কারণ আপনারা একটা ইল্যুশনে ডুইবা আছেন। প্রেম ,ভালোবাসা ,ডিপ্রেশন ,মোটিবেশন ,মাস্টারবেশন ইত্যাদি নিয়ে অতীত ভুলতে চাওয়া পোলাপাইন গুলারে তিনদিন না খাইয়ে রাখলে তারা বুঝবে হাউ লাকি ইউ আর্। মনোজাগতিক সমস্যা পড়ে। মানুষের বেসিকতম নিড টা হচ্ছে খাবার ,মাথার উপর ছাদ। যাদের পেটে খানা আছে তারাই ডিপ্রেশনে ভোগে। আমি জীবনে কোন রিকশাওয়ালা গার্মেন্টস কর্মীরে ডিপ্রেশনে ভুগতে দেখি নাই। মামা মন খারাপ কেন? ভাড়া কম মারছি। মালিকরে জমা দিতেই সব যাইব গা। খামু কি? দিস ইজ দা বেসিক ক্রাইসিস অফ এনি হিউম্যান। সৃষ্টির শুরু থেকে মানবজাতির সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে এই প্রশ্নের দ্বারা। খামু কি? তাহলে খাইতে ভাল লাগেনা বলে ভাত নষ্ট করা আপনারা কতটা লাকি সেই খবর জানেন? আপনার মা আপনাকে রাইধা খাওয়ায় আপনি কতটা আরামে আছেন জানেন? না জানেন না। এই লেখা শুরু করার আধঘন্টা আগে আমি আলু কাইটা চুলায় দিলাম। ভাত চড়াইলাম। আমরা জানি। মায়েদের কত কষ্ট। মনোজাগতিক বিলাসিতা ছাড়েন। তবে সারাদিন আমার এই নাই ওই নাই প্রেমিক নাই, জি এফ নাই, অমুক ড্রেস নাই, গায়ের রং কালো ,হাতখরচ কম দেয়, নিজেকে অপদার্থ লাগে ,ফেসবুকে দেখছি ডিপ্রেশনে ভাব আছে তাই ডিপ্রেসড এইসব ছাড়েন। ইউ আর ড্যাম লাকি যে আপনার পেটে ভাত আছে!

No comments:

Post a Comment

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫