ইসলামী আইনে বিয়ে করা কি ফরজ, বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবেন?

প্রশ্ন: ইসলামী আইনে বিয়ে করা কি ফরজ, ওয়াজিব না সুন্নত। কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবেন?

উত্তর: ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব অপরিসীম, পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এ বিষয়ে রয়েছে বিষদ বর্ণনা। সাধারণত বিয়েকে ইসলাম উৎসাহিত করে তথাপি অবস্থা ও পারিপার্শ্বিকতার উপর ভিত্তি করে এটি কোন কোন ব্যক্তির জন্য ফরজ হয়, কারো জন্য ওয়াজিব আবার কারো সুন্নাত, কারো জন্য মুস্তাহাব, কারো জন্য শুধুই হালাল এমনকি কারো কারো জন্য হারামও হয়ে থাকে। এই নীতি মুসলমান নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। রাসূল (ﷺ) বিয়ে করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে বিয়ে করবার, সে যেন বিয়ে করে। কেননা এটা দৃষ্টিকে নত রাখা ও গোপনাঙ্গ সমূহের হেফাযতের জন্য সবচাইতে কার্যকর। আর যে তা পারবে না, সে যেন সাওম বা রোযা পালন করে, কেননা এটা তার জন্য ঢাল স্বরূপ”। [সহীহ বুখারী ৫০৬৫, সহীহ মুসলিম ১৪০০]

ব্যক্তি হিসেবে বিয়ে কয়েক প্রকার। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:
ফরয বিয়েঃ
যদি সামর্থ থাকার সাথে সাথে চাহিদা এতো বেশি থাকে যে, বিয়ে না করলে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে বিয়ে করা ফরয।
من الفعل الحرام النظر المحروم والاستمناء بالكف
অর্থঃ কু-দৃষ্টি ও হস্তমৈথুন হারাম কাজের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ বিয়ে না করলে হস্তমৈথুন বা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিয়ে করা ফরয।

ওয়াজিব বিয়েঃ
যখন বিয়ে প্রয়োজন তথা দেহ-মনে তার চাহিদা থাকে। তার এই পরিমাণ সামর্থ থাকে যে প্রতিদিনের খরচ প্রতিদিন উপার্জন করে খেতে পারে। তখন বিয়ে করা ওয়াজিব। বিয়ে থেকে বিরত থাকলে গুণাহগার হবে।

সুন্নাত বিয়েঃ
যদি বিয়ের চাহিদা না থাকে কিন্তু স্ত্রীর অধিকার আদায়ের সামর্থ রাখে তবে বিয়ে করা সুন্নত। কেননা রাসূল (সা.) বলেছেন, বিয়ে আমার সুন্নাত, যে আমার সুন্নাত ত্যাগ করলো, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারী: ৫০৬৩ ও মুসলিম:১৪০১)

নিষিদ্ধ বিয়েঃ
যদি কারো আশঙ্কা হয় সে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে পারবে না। চাই তা দৈহিক হোক বা আর্থিক হোক। তার জন্য বিয়ে করা নিষিদ্ধ। অথবা যার অধীনে ৪জন স্ত্রী বর্তমান রয়েছে, তার জন্য পঞ্চম বিয়ে করা হারাম।

মতভেদপূর্ণ বিয়েঃ
যদি চাহিদা ও প্রয়োজন থাকে কিন্তু সামর্থ না থাকে তাহলে তার বিয়ের ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। অধমের মতে; ওয়াজিবের মতটিই অগ্রগণ্য। সামর্থ কষ্ট-শ্রম ও ঋণ করার দ্বারা অর্জন হয়। যদি সে তা আদায় করার পরিপূর্ণ ইচ্ছা রাখে। আদায়ের চেষ্টাও করে। যদি সে আদায় করতে না পারে তবে আশা করা যায় আল্লাহ তার ঋণ দাতাকে রাজি করিয়ে দিবেন। কেন না দ্বীনের সংরক্ষণের জন্য ঋণ করে ছিলো। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য ঋণ করা নাজায়েয। বরং ভরণ-পোষণ ও মহর আদায় করার জন্য-যদি তা নগদ প্রদান করতে হয়- ঋণ করতে পারবে। আর যদি অর্থের ব্যবস্থা করতে অপারগ হয়, তাহলে রোযা রেখে তার যৌন চাহিদা দমন করবে। কেননা রাসূল (সা.) বলেছেন: বিয়ের সামর্থ না থাকলে রোযা থাকবে, এতে যৌন চাহিদা হ্রাস পায়।
এ ব্যাপারে মুখতাসারুল কুদুরীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫