জলের দরে ফলের রস, না খেলে টুটাল লস।

_____শশুড়_বাড়ি_জিন্দাবাদ।_______
-- জলের দরে ফলের রস, না খেলে টুটাল লস।
-- তোমার ফলের রস তুমিই খাও। আর একটু তারাতারি এসো।
-- আমি না গেলে কি হয় না দেবিকা?
-- জ্বি না। শুরুটা যেহেতু তুমিই করেছে তাই শেষটা তোমার হাতেই করতে হবে।
-- ওকে ওকে আমি যাবো তবে ওইখানে গিয়ে কোন বিল দিতে পারবো না।-----

----টেনশন নিও না।
আমিই তোমার টাকা দিবো।
এবার আপাতত একটু চলো, নয়ত বেচারা এসে বসেই থাকবে।
যেহেতু আমাকে কোন বিল দিতে হবে না তাই তারাতারি নাস্তাটা শেষ করে রেডি হয়ে নিলাম আর দেবিকার সাথে বেড়িয়ে পড়লাম।
আসলে এতখন আমাদের মাঝে কথা হচ্ছিল দেবিকার হবু জামাইকে নিয়ে।---

---আজ দেবিকা আর ওর জামাইয়ের দেখা করার কথা। আর এর মাঝে দেবিকা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে নিয়ে যাওয়ার কারন হলো, আমি এই নিয়ে দেবিকাকে ৯ বার প্রপোজ করেছি কিন্তু ও রাজি হয় নি। কিন্তু ওর বিয়ে ঠিক হইছে পরে ওরে এড়িয়ে চলতে শুরু করি। কিন্তু এখানে ওর জামাইয়ের সাথে আমাকে কেন দেখা করাবে?----

----দেবিকা আর আমি একই বিল্ডিং এ থাকি। আর দুইজনের মাঝে পরিচয় ১০ বছর যাবত। বিল্ডিং টা ৮ তলা আর আমার পরিবার ৪ তলায় থাকে আর ওরা ৫ তলায়। আর দেবিকার সাথে আমার বয়সের ব্যবধানও মাত্র ১ বছর ১ মাস ১৪ দিনের। আমাদের দুইজনের পরিবারই এই বিল্ডিং এর পুরাতন ভাড়াটিয়া তাই পরিচয়টা একটু গভীর আর সেই হিসাব থেকে।---

------ওরে আমি প্রপোজ করি কিন্তু এই মেয়ে প্রথম প্রপোজে আমাকে চর মারে তাই রাগে বার বার প্রপোজ করি। এতে ৯ বার প্রপোজ করায় ৯ টা চর কপালে জুটে। যদি আমি ওরে বলতে যাই " ওই আমি তোমার এক বছরের বড়, তাই চর মারো কেন? " এই কথা বলায় ওর উত্তরটাও স্বাভাবিক " বয়সে এক বছরের ছোট বড় কোন ব্যাপার না।এমন বয়সের বিবর্তনে তো বন্ধু তৈরি হয়।----

------ওর কথায় মাঝে মাঝে মনে হয় আমিও ইমরান হাশমি হয়ে যাই আর ডায়লগ দেই " তোর ফ্রেন্ড নয় বরং বয়ফ্রেন্ড হতে চাই "।
যাই হোক, গত মাসে ওর বিয়ে ঠিক হইছে আর আমি আর এখন ওরে প্রপোজ করি না। কারন ছেলে সরকারী চাকরী করে, নিজের বাড়ি আছে তবে ছেলের ছবি দেখে মনে হয় ওদের বয়সের তফাৎ ৯ বছরের তো হবেই।----

----এইটা কোন ব্যাপার না আমাদের সমাজে কারন সরকারী চাকরীর লোভ ৮০% মেয়েদের বাবা মায়ের থাকে। সেইখানে আমার কোন মূল্যই নেই। অবশ্য দেবিকাকে আমি বুঝিয়েছি যে এতে ও সুখি হবে না কিন্তু ওর উত্তর ছিল ওর কিছু হলেই বা আমার কি?আর এখন আমাকে কেন নিয়ে যাচ্ছে ছেলেটার সাথে দেখা করাতে সেটাই বুঝতে পারছি না।---
.

-----একটা হোটেলের সামনে এসে আমাদের রিকশা থামলো। ভাবলাম দেবিকা যেই ভাব নিয়ে আসছে ও নিজেই ভাড়াটা দিয়ে দিবে কিন্তু কাহিনী হলো উল্টা....
-- রাজ ভাড়াটা দিয়ে আমার সাথে এসো।
-- বাহ্ মহারাণী ভিক্টোরিয়া আসছে যে ওনার ভাড়া আমাকে দিতে হবে।---

----ও আমার কথা শুনে আমার দিকে ফিরে তাকালো। এমন চোখ করে তাকালো যেন আমি ওর থেকে ওর কিডনি দুইটা ১ মাসের জন্য ধার চাইছি। ওর চোখের দিকে না তাকিয়ে ভাড়া মিটিয়ে দিলাম আর ওর পিছু পিছু যেতে লাগলাম। ও হোটেলের চারদিকটা ভাল করে দেখতে লাগলো।তখন আমি বলল....
-- এই যে হ্যালো, তোমার হবু জামাইটা কোথায়?
-- একটু দেখো তো এখানে কার মাথায় টাক আছে।----

----- মানে?
-- হুমম মায়ের কাছে শুনেছি ছেলের মাথায় নাকি চুল নেই।
-- হি হি হি মানে মাথাটা স্টেডিয়াম। ভালই হবে মাঝে মাঝে এলাকার মাঠে জল জমলে তোমার জামাইয়ের মাঠে গিয়ে ক্রিকেট খেলবো।
-- ওই চুপ, ওই যে দেখো একটা টাকওয়ালা লোক কর্ণারের টেবিলে বসে খাচ্ছে। হয়ত এটাই হবে এখন চলো।----

-----আমি আর দেবিকা ওই লোকটার সামনে যেতেই ওই লোকটা উঠে দাড়িয়ে বলল " তুমি দেবিকা তো, তাহলে বসো। "আমিও দেবিকার পাশে বসলাম। আর ভাবছি এটা জামাই নাকি অলরেডি দুই পা কবরে যাওয়া মানুষ। এমনি তো দেখে মনে হয় জীবনের বাকি সময় টাকার পিছনে ছুটে বিয়ে করার সময় পার করছে আর এখন আমার না হতে পারা গার্লফ্রেন্ডটাকে নিতে আসছে। হায়রে আজ বুঝলাম।----

----- আমাদের দেশে বুইড়া ছেলেরা জোয়ান ছেলেদের ভাত কেমনে মারে । আমি প্রথমে দেবিকার মুখের দিকে তাকিয়ে ওরে বুঝাতে চাইলাম যেন ওরে বিয়ে না করে।তারপর ভাবলাম এই অাধা আঙ্কেলটার সাথে একটু মজা নেওয়া যাক।
-- আচ্ছা আঙ্কেল আপনার ছেলে আসে নি মেয়ে দেখতে।----

---- ওই ছেলে মানে কি? আমি নিজেই তো আসছি আর মেয়েও আমার জন্যই দেখছি।
-- ও সরি সরি। আমি তো ভাবলাম আপনার ছেলের জন্য।
কথা বলে দেবিকার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখছি ও মুচকি হাসছে। তারপর আবার বললাম...
-- আচ্ছা আপনার নামটাই তো জানা হয় নি?
-- ও আমি রাহুল।
-- পুরান মডেলের গাড়ীর নতুন মডেলের নাম।
--মানে?
-- না মানে নামটা স্টাকচারের সাথে মানাচ্ছে না। আচ্ছা যাই হোক, আমার একটা কথা বলার ছিল?
-- এতখন ধরে তো তুমিই বকবক করছো আর এখন কথা বলার পারমিশন চাচ্ছো।
-- দেখতে তো হাফ বুইড়া লাগে কিন্তু তেজ ঠিকই আছে। ( আস্তে আস্তে বললাম)
-- কি বললে?
-- না মানে আপনার আর দেবিকার বয়সের তুলনাটা একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে না।
-- বেশি কোথায়? মাত্র তো সাড়ে ১৪ বছর।আর টাকা থাকলে বয়সের কি দাম?
-- হুমম ঠিকই বলছেন।
-- ও ভালো কথা তুমি দেবিকার কি ভাই লাগো তাই না। আর আমার শালা।
-- শালা হবে তেরি বাপ হারামজাদা। ৫ বছর ধরে লাইন মারছি আর ৯ বার প্রপোজ করছি আর এখন তুই হাফ বুইড়া আসছিস ওরে নিয়ে যেতে। তোরে যদি ওই এলাকার আশে পাশেও দেখি না তাহলে পিছ পিছ করে ফেলবো।
মিস্টার রাহুল চুপ করে বসে আছে আর আমি দেবিকার হাতটা ধরে নিয়ে আসলাম। হোটেল থেকে বার হওয়ার পর দেবিকা আমার হাতটা ছেড়ে দিলো আর বলল....
-- আমাকে নিয়ে আসলে কেন?
-- কারন আমি চাই না এমন একটা ছেলের সাথে বিয়ে হোক। ছেলের ছবি দেখে ভাবছিলাম তোমার সাথে আট বা নয় বছরের তফাৎ হবে। কিন্তু এখানে এসে বুঝলাম ১৫ বছরের তফাৎ।
-- হলে হবে এতে তোমার কি সমস্যা?
-- কেন বুঝো না কি সমস্যা?
-- না বুঝি না।
-- আমি তোমায় ভালবাসি আর এটাই সব চেয়ে বড় সমস্যা ।আমি তোমাকে ভাল একটা ছেলের বউ হতে দেখতে পারবো কিন্তু এমন টাকলু আঙ্কেলের বউ হতে দেখতে পারবো না।
-- তোমার সমস্যা টা কি জানো রাজ? তুমি আমায় এই নিয়ে ১০ বার প্রপোজ করলে কিন্তু একবারও বললে না আমাকে তোমার বউ বানাবে। আরে ভালবাসার অফার তো যে কেউ দিতে পারে কিন্তু বিয়ে করার অফার কয়জন মেয়ের কপালে জুটে বলো।
.
আমি ওর কথা শুনে চুপ হয়ে গেলাম কারন ওর কথায়ও যুক্তি আছে। আমি তো আসলে ওর মনটাই বুঝতে চাই নি। আমাদের মাঝে কিছুটা সময় নিরবতা বয়ে গেল।হঠাৎ দেবিকা বলল...
-- ওই আমাকে ৩০ টাকা দাও তো।
-- কেন?
-- দিতে বলছি দাও।
আমিও পকেট থেকে টাকা বের করে দিলাম। আর ও সরাসরি একটা রিকশা বাসার জন্য ঠিক করে উঠে বসলো। আমি যখন ওর সামনে গেলাম তখন ও বলল..
-- রাজ আগে ভালবাসতে শিখো তারপর এসো আমার সামনে। দরকার হলে সারা জীবন তোমার অপেক্ষায় থাকবো।

আমি রাস্তায় দাড়িয়ে রইলাম আর দেবিকা চলে গেল।
তারপর আমিও একটু ঘুরাঘুরি করে চলে আসলাম বাসার দিকে।
.
একদিন সকালে ঘুমিয়ে আছি হঠাৎ নিলয়ের ডাকে ঘুমটা ভাঙ্গলো। আর নিলয় হলো আমার ছোট ভাই......
-- কিরে এতো সকালে ডাকছিস কেন?
-- বাবা তোরে ডাকছে।
-- কেন?
-- বলতে পারি না, নিজেই গিয়ে দেখ।
যেহেতু বাবা ডাকছে তাই চোখে ঘুম নিয়েই হাজির হলাম। মনে হচ্ছে কোন কাজের চাপে আছে বাবা। আমি ওনার সামনে গেলাম....
-- রাজ বাবা আমার একটা কাজ করে দিবি।
-- কি কাজ বাবা?
-- আজ তোরে একটু আমাদের গ্রামের বাড়ি যেতে হবে। আর তিনদিন পর তোর জেঠুর ছেলে মানে আমার বড় ভাইয়ের ছেলের বিয়ে।
-- কিন্তু বাবা আমার তো চাকরীর খোজেঁ বার হতে হবে।
-- বুঝছি কিন্তু তুই না গেলে তো তোর মা, নিলয় আর উপর তলার তোর আন্টিও যেতে পারবে না।
-- উপর তলার আন্টি বলতে কে?
-- আরে দেবিকার মা। ওদের নিমন্ত্রণ দেওয়া হইছে। আর ওরা তো বাড়ি চিনে না তাই আমাদের সাথেই যাবে।
-- বুঝলাম কিন্তু ওদের কেন নিমন্ত্রণ করলো?
-- দেবিকার বাবা তো আমার সাথে একবার আমাদের গ্রামে যায় আর ওইখানে কিছুদিন থাকে। পরে আমার ভাইয়ের সাথে ভাল একটা সম্পর্ক হয়। এই কারনেই নিমন্ত্রণ করছে বুঝলি।
-- হুমম বুঝলাম।
-- আচ্ছা তুই যদি না নিয়ে যেতে পারিস তাহলে তো আমাকেই যেতে হবে।
-- না না বাবা আমি যামু।
-- আচ্ছা তাহলে আমি আর দেবিকার বাবা বিয়ের দিনই চলে যাবো।
-- আচ্ছা।
তারপর রুমে এসে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। আর এখন খুশিতে নাচতেঁ মন চাচ্ছে। আমি গ্রামের বাড়ি ভুলেও যেতাম না তবে যেহেতু দেবিকা যাবে তাই যেতে তো হবেই।
.
বাসে বসে আছি তবে সিট নিতে হইছে ৫ টা। যেহেতু আমরা ৫ জন তাই, তবে একজনকে একা বসতে হইছে আর সেটা আমি। আমার মা আর দেবিকার মা বসছে পাশাপাশি। দেবিকা আর নিলয় বসছে পাশাপাশি তবে দেবিকা জানালার পাশে বসছে, এরপর নিলয় আর এর বিপরীতে আমি বসছি। আমার পাশের জানালার সিটে একটা বয়স্ক লোক বসেছে । ইচ্ছা করছে নিলয়কে উঠিয়ে দিয়ে আমি গিয়ে বসি। আমার বাম পাশেই ওদের সিট তাই ওদের কথাও শুনতে পারি। হঠাৎ নিলয় দেবিকাকে বলল.......
-- হাই দিদি
-- হ্যালো
-- দিদি তুমি না খুব সুন্দর গো।
-- ও আচ্ছা ।
-- আচ্ছা তোমার তো কোন ছোট বোন নেই। তাই না
-- না তো নেই, কেন বলো তো?
-- আসলে তোমাকে আমার হেব্বি ভাল লাগে কিন্তু বয়সে তো বড় তুমি তাই ভাবছি তোমার বোন থাকলে লাইন মারতাম।
নিলয়ের কথা শুনে দেবিকার মুখের রিয়েকশন দেখার আগে আমারই মাথা ঘুরাচ্ছে। আরে আজও এতো সহজ ভাবে আমি দেবিকাকে এই কথাটা বলতে পারি নি কিন্তু নিলয় কত্তো সহজে বলে দিলো। আমি দেবিকাকে যদিও ১০ বার প্রপোজ করছি তবুও আমার হাত পা কাপছেঁ।
-- নিলয় ভাই তুই একটু আমার সিটে বস তো।
-- তোমার সিটে কেন আসবো?
-- কারন দেবিকার সাথে আমার কিছু কথা আছে।
-- ও আচ্ছা, আসতে পারি তোমার সিটে তবে যদি তোমার মোবাইল টা দাও।
-- ওকে নে।
ওরে আপাতত আমার মোবাইলটা দিয়ে দেবিকার পাশে গিয়ে বসলাম।ও জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।
-- এই যে এখন নিলয় তোমারে ইনডাইরেক্ট প্রপোজ করলো কিন্তু তুমি ওরে মারলে না কেন?
--ও খুব সহজে কথাটা বলে দিছে, তোমার মত কাপাকাপিঁ করে নি।
-- ও আচ্ছা।
-- আর তোমার থেকে তোমার ভাইয়ের সাহস অনেক। ও যদি আমার ২ বছরের ছোট হতো তবুও ওর সাথে প্রেম করতাম।
-- ও আচ্ছা সমস্যা নেই। তোমার তো এক মাত্র দেবর নিলয়।
-- মানে?
-- কিছু না।
আর কোন কথা না বলে দেবিকার হাতটা ধরে রাখলাম। ও যদিও আমার দিকে তাকাইছে তবুও আমি অন্য দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু ও কোন রিয়েশন করে নি।
আজ জার্নি না খুব ভাল ভাবেই শেষ হলো। আর আমরা বাস থেকে নামতেই নিলয় আমার হাতে আমার মোবাইল দিলো তবে চার্জ শেষ করে। আমার কপালে একটা ছোট ভাই আছে বাধাঁই করে রাখার মত।
তারপর দুইটা রিকশা নিলাম। একটাতে আমার মা আর দেবিকার মা আর নিলয় উঠলো। আরেক রিকশায় আমি, দেবিকা আর দুইটা ব্যাগ নিলাম। কিন্তু ও চুপ করে আছে।
বাসায় গেলাম ওদের নিয়ে। সবাই অনেক খুশি হলো আমাদের দেখে। তবে মনে হচ্ছে দেবিকাকে দেখে আমার কদর কমে গেল। সবাই সবার সাথে কৌশল বিনিময় করতে লাগলো তবে শুধু আমি ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে আছি। সবাইকে নিচে রেখে আমি ব্যাগ নিয়ে সরাসরি দুতলায় আমার জেঠুর ছেলের রুমে চলে গেলাম। তিন দিন পর নাকি ওর বিয়ে। শুনেই হাসি আসছে কারন আমি আর ও তিন দিনের ছোট বড়। আর ও নাম হলো নিহান।
.
রাতে সবাই বসে খাওয়া দাওয়া করছি। গ্রামের এই নিয়মটা আমার খুব ভাল লাগে যে সকাল, দুপুর আর রাতের খাবার সবাই এক সাথে খায়। আমার পাশেই নিহান ভাই বসেছে। ওনি খাওয়ার ফাকেঁ আমাকে আস্তে জানতে চাইলো....
-- কিরে রাজ এই দেবিকাটা আবার কে?
-- তোর বৌদি হয়। দেখে শুনে রাখিস যেন বিয়েতে কোন ছেলে নজর না দেয়।
-- বাহ্ আমি বিয়ে করার পর একটা মেয়েকে আমার সঙ্গী পাবো আর তুই তো আগেই পেয়ে গেলি।
-- হুমমম।
-- তুই খুব লাকি রে।
-- হুমম কচু। ওর হাতে যে পরিমান জোর আছে সেটা যদি জানতি তাহলে আর বলতি না।
-- মানে?
--( আমি কথা না বলে আমার গালে হাত দিলাম)
-- থাক ভাই বলতে হবে না। আমি বুঝতে পারছি।
-- ভাই কাল আমার সাথে তোর হবু বৌদির সাথে দেখা করতে যাবি। আসলে আমারও লাভ ম্যারেজ।
-- ও আচ্ছা, তুমিও তলে তলে টেম্পু চালাও আর আমি কিছু জানতে চাইলেই বলো গাড়ী নষ্ট।
-- মানে?
-- মানে তোমার বুঝতে হবে না, যারা বুঝার তারা বুঝতে পারছে।
এরপর খাওয়া শেষ করে নিহানের রুমেই চলে আসলাম। কারন আমি যতবার এই বাসায় আসছি ততবারই নিহানের সাথে ঘুমাইছি। রাতে শুয়ে শুয়ে দেবিকার কথা ভাবছি, মেয়েটা এখানে আসার পর একটা বারও আমার সাথে কথা বলে নি। বাসে ওর হাত ধরাটা কি ভুল হয়েছিল?
.
সকালে খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গলো কারন নতুন জায়গাতে আমার ঘুম একটু কমই হয়। আমি খুজতেঁ লাগলাম টুথপেস্ট কোথায় পাবো? খুজতেঁ খুজতেঁ নিচে এসে দেখি আমার জেঠি মা আর দেবিকা কথা বলছে আর নিমের ডালা দিয়ে দাতঁ মাজছেঁ। আমায় দেখে জেঠিমা বলল...
-- কিরে এতো সকালে ঘুম থেকে উঠলি কেন?
-- আসলে তোমার সাথে আসার পর আর কথা বলা হয় নি তাই কথা বলতে আসলাম।
-- বুঝছি, এই নি নিম ডালা। দাতেঁ ঘষে দেখ, পেটের সব সত্যি কথা বার হয়ে যাবে।
-- হুমম জানি তো। এটার সাথে অনেক আগের থেকেই পরিচিত আমি।
-- হুমম তোরা কথা বল আর আমি রান্না ঘর পরিষ্কার করি। অনেক কাজ পরে আছে।
বলেই জেঠি মা চলে গেল। আমি আর দেবিকা বসে আছি তবে আমি দাতঁ মাঝছি না। কারনটা নাই বললেই ভাল হবে। হঠাৎ আমাদের মাঝে এসে যোগ দিলো নিহান ভাই।
-- রাজ চল এখন দেখা করে আসি। তোর বৌদির বাসা পাশের গ্রামেই।আর দেবিকা তুমিই চলো, ৩০ মিনিটের মাঝে চলে আসবো। ও আমায় ফোন দিয়ে বলছে এখন দেখা করতে।
আমি আর দেবিকা হাটতেঁ লাগলাম আর নিহান ভাই তোর ওর হবু বউয়ের নামে গুন গাইতে গাইতে শেষ। মনে হচ্ছে, শ্রদ্ধা কাপুর ওর বউ হবে।
.
এরপর ১০ মিনিট হাটার পরই দেখি দুইটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে।নিহান ভাই হাত দিয়ে দেখিয়ে দিলো কোনটা ওর হবু বউ। তারপর আমরাও ওনার সাথে কথা বললাম।
কথা বলা শেষে যখন চলে আসবো তখন আমি নিহান ভাইয়ের কাছে বৌদির পাশের মেয়েটার নাম জানতে চাইলাম। আর তখনই দেবিকার চোখটা পুরু রিনাখানের মত হয়ে গেল। তখন দেবিকা নিহান ভাইকে বলল...
-- ভাই আপনি একটু সামনে যান তো, রাজের সাথে আমার একটু কথা আছে।
-- ওকে।
নিহান ভাই একটু সামনে যেতে না যেতেই দেবিকা আমারে মারতে শুরু করলো।
-- আরে মারছো কেন?
-- আমি মারবো না তো কি ওই মেয়েটা মারবে?
-- ধ্যত, তোমার থেকে ওই মেয়ে যথেষ্ট ভালো ওকে।
-- ও যাও তাহলে ওর কাছেই যাও আর কখনো যেন আমার সামনে তোমায় না দেখি।
-- তাহলে তোমার পিছু পিছু আসি।
-- হুহহ, তুমি আমায় একটুও ভালবাসো নি।
-- আরে আরে এখানে এই কথা কেন আসছে?
-- কারন, তুমি আমার সামনে অন্য মেয়ের প্রশংসা কেন করলে?
-- ওকে আর করবো না তো।
-- ওকে মনে থাকে যেন।
-- হুমম।
যাক বুঝতে তো পারলাম দেবিকাও আমায় ভালবাসে। এটা ঠিক যে যদি কোন মেয়ের থেকে ভালবাসার কথা বের করতে চাও তাহলে অন্য মেয়ের প্রশংসা করো।
.
আজ নিহানের বিয়ে আর একটু পরে আমরা সবাই বর যাত্রী যাবো। তাই আমি আর দেবিকাও নিহানের ভাই যে গাড়ীতে যাবে সেই গাড়ীতে উঠলাম। ভাইকে দেখে মন হচ্ছে খুব টেনশনে আছে..
-- কি ভাই বিয়ে করার মাঝে এতো ভয় পেলে চলে?
-- রাজ ভাই এতোদিন ছিলাম জীবিত আর এখন হবো বিবাহিত এটাই ভয়।
-- ঠিক বললে।
-- বিয়ে আর যুদ্ধের মাঝে পার্থক্য জানিস তো?
-- না তো।
-- যুদ্ধে শত্রুর ক্যাম্প টা হয় আলাদা কিন্তু বিয়েতে শত্রুকে পাশে নিয়ে আজীবন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হয়।
-- হুমম জানি মিঠুন দার ডায়গল গো
কথা বলা শেষে দেবিকার দিকে তাকিয়ে দেখি ও অনেক হাসছে। আসলে বিয়ে করতে যাওয়া আর যুদ্ধে যাওয়া হয়ত একই।
.
বিয়েতে অনেক মজা করে সকালে বাসায় আসলাম। আর আগামীকাল আমরা সবাই চলে যাবো আর গতকাল বাবাও চলে আসছে।বাসায় এসেই খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরলাম।
.
দুপুরে ঘুম ভাঙ্গলে নিচে হাটঁতে থাকি মাকে খুজাঁর জন্য। হঠাৎ আমায় একটা মহিলা ডাক দেয়। একসাথে উঠানে বসে অনেকে মশলা বানাতে ছিল। মনে হয় এই গ্রামেরই হবে। আমাকে ডাক দেওয়ায় গেলাম ওদের সামনে...
-- রাজ বাবা কেমন আছো?
-- জ্বি ভাল, আপনারা কেমন আছো?
-- ভাল, তোমার সাথে শহর থেকে একটা মেয়ে আসছে। কি নাম যেন দেবিকা? ও তোমার কি হয়?
-- আমরা যে বাসায় থাকি ওরাও সেই বাসায় থাকে।
-- ও ওর বিয়ে কি ঠিক হয়ে আছে।
-- না তো কেন?
-- আমার ছেলে দেবিকাকে পছন্দ করছে। আমার ছেলেরও জন্য মেয়ে খুজতেঁ ছিলাম। এখন ওর পরিবারের সাথে কথা বলা যাবে বিয়ের ব্যাপারে।
-- আন্টি চুপ হয়ে যান। কারন, ওরে আমি ভালবাসি আর আপনার ছেলে যদি এর মাঝে আসে তাহলে ওর বিয়ের এসি কি তেসি।
-- কি বললি তুই?
পিছনে ফিরে দেখি আমার বাবা দাড়িয়ে আছে। এতদিন ভয়ে কিছু বলতে পারি নি কিন্তু আজ বলাই হয়ে গেছে তাই এবার চুপ করে থাকা উচিত হবে না।
-- বাবা এটা সত্যি যে আমি আর দেবিকা একে অপরকে ভালবাসি তবে যদি আমাদের দুই পরিবার না মানে তো আমরা বিয়ে করবো। আপনাদের মুখের দিকে তাকিয়ে যে কাউকে বিয়ে করতে রাজি ।
-- তাহলে রাজ তুই আগের বিয়েটা ভেঙ্গে দিয়েছিস। ( দেবিকার বাবা)
-- হুমম।
-- যা তুই এখনি ব্যাগ গুছা। ( বাবা আমায় ধমক দিয়ে বলল)
আমি উপরে উঠতে যাবো তখনই দেখি দেবিকাকে আর ওর চোখে জল। এটা বাবাও দেখছে আর দেবিকার বাবাও।
তখন দেবিকার বাবা আমায় বাধাঁ দিলো আর দাড় করালো। আর ওনি আমার সামনে গিয়ে বলল.....
-- দেবিকা আমার এক মাত্র মেয়ে। তাই আমি চাই আমার মেয়ে সুখে থাক কিন্তু যদি আমার মেয়ে আর রাজ পালিয়ে যেত তাহলে সেটা আমাদের মুখে চুন কালি মারা হতো। কিন্তু ওরা তো কিছুই বলে নি বরং আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে ওদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তৈরি করছিল।
-- হুমম আমিও তাই ভাবছি। কিন্তু তুমি তো মেয়ের বাবা। হয়ত এটা খারাপ ভাবেও নিতে পারতে।
-- হুমম কিন্তু আমার মেয়ের সুখের কাছে আমার রাগটা যে অনেক ছোট।
-- তাহলে আর কি আজই ওদের বিয়েটা পাকাঁ করে দেওয়া যাক।
-- না কারন রাজ যেদিন নিজের পায়ে দাড়াবেঁ সেই দিন ওদের বিয়ে হবে।

আমি আর ওয়েট না করে হবু শশুড়ের পায়ে প্রনাম করেই নিলাম কারন যদিও শেষ বলে ছক্কাটা আমার এই শশুড়ই মারলো।আর সব কথার মাঝে আমি বলে উঠলাম" এই হলো শশুড় জিন্দাবাদ "। সবাই আমার কান্ড দেখে হাসতে শুরু করলো । যাক, আপাতত একটু নিশ্চিত তো হওয়া গেল যে দেবিকা আমার গলায় ঝুলবে।------

                    ------সমাপ্ত-----

No comments:

Post a Comment

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫