অ্যাপসটি সবাই কেন ব্যবহার করতে চায়। কারণ হচ্ছে এতে রয়েছে সকল ধরনের সবিতা। জিটিভি লাইভ খেলা, রেডিও ,টিভি, নিউজ পেপার ,পুলিশের নাম্বার ,লাইভ ক্রিকেট খেলার ,cricket scores ,football scores , অডিও কোরআন শরীফ শুনতে ও পড়তে পারবেন , আরো রয়েছে আপনার সন্তানের পরীক্ষার রেজাল্ট বাহির করতে পারবেন ,ইত্যাদি সকল বিষয়। এবং আরো রয়েছে অনেক ধরনের সুবিধা যেমন আপনি যেখানে ১২ থেকে ১৫ টা সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে । সেখানে আপনি মাত্র চার এমবি একটা সফটওয়্যার ইন্সটল করে সব কাজ করতে পারেন। কোন জামেলা ছাড়াই । এবং ফ্রিতে ইন্সটল করতে পারেন কোন play store সমস্যা পড়তে হবে না । ডাউনলোড লিংক দেওয়া হল ভালো লাগলে ডাউনলোড করে ব্যবহার করবেন ধন্যবাদ সবাইকে

আমি কিছু বলিনি সেদিন কান্না চেপে ধরে রেখেছিলাম।

ছেলে→ আই লাভ ইউ তমা..
মেয়ে→থাপ্পড় চিনেন?
ছেলে→চিনি তো,,
মেয়ে→ খাবেন?
ছেলে→ কে দিবে?
মেয়ে→আমি দিবো,,
ছেলে→দেড়ি করছো কেনো এখনি দাও,,
মেয়ে→লজ্জা করেনা আপনার?
ছেলে→ আমি তো প্যন্ট পরছি
মেয়ে→আপনাকে যে কি করি
ছেলে→ বিয়ে করো
মেয়ে→আসলে একটা থাপ্পড় দেয়া উচিৎ আপনাকে..
ছেলে→ চাইলে কিস ও করতে পারো না করবোনা,,
মেয়ে→সামনে থেকে সরুন
ছেলে→পিছনে পিছনে আসবো নাকি?
মেয়ে→ কি করেন আপনি?
ছেলে→পড়াশোনা করি,,
মেয়ে→আপনার বাবা কি করেন?
ছেলে→বাবা নেই,
মেয়ে→মারা গেছেন?
ছেলে→ না আসলে আমি জানিনা,
মেয়ে→আপনার মা কি করেন?
ছেলে→আমার জন্মের সময় মারা গেছেন,,
মেয়ে→থাকেন কোথায়?
ছেলে→বস্তিতে,,
মেয়ে→ওখানে থাকেন কেনো?
ছেলে→এক ভিখুকের সাথে এখন ওনি আমার মা,,
মেয়ে→ ফকিন্নির বাচ্চা তোর সাহস তো কমনা,,
ছেলে→আপনাকে ভালবাসতে পারবো না কেনো?
মেয়ে→একজন ভিখারির বাচ্চাকে বয়ফ্রেন্ড কি করে বানাই?
ছেলে→আর কোন দিন তোমার সামনে আসবোনা,,,

আমি আর কিছু বললাম না চুপ করে নিরবে চলে আসলাম। ভালবাসা জোর করে হয়না আর আমি যেহুতু ভিখারির ছেলে। আমার জন্য এইসব ভাবাও পাপ,,

আমি ফারাবী হাবিব ডাক নাম ফারাবী এক বস্তিতে থাকি,, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্স করছি।
আমার বাবা কে তা জানিনা মা জন্মের সময় মারা গেছেন। তাই মায়ের মুখ দেখিনি।
বড় হয়েছি এক ভিখারির কাছে তাই তিনিই এখন আমার মা।

কিছুটা বুঝতে শিখেছি তাই টোকাই দলে নাম লিখিয়েছি। সারাদিন টোকাই করে যা পেতাম তাতেই আমার দিন চলে যেতো।
একদিন পাশের মহল্লার কিছু টোকাই ছেলে আমাকে মেরেছিলো।
তাই আমার মা আমাকে আর টোকাই গিরি করতে দেননি। কিছু দিন পর একটা স্কুল এ পড়তে পাঠালেন। আর তিনি সারাদিন রাস্তাঘাটে মানুষের কাছ থেকে টাকা জোগার করে সংসার চালান।

প্রাইমারী পাস করার পর আসি হাইস্কুল এ বেশ মেধাবী ছিলাম। সব সময় ক্লাসে ফাস্ট হতাম পাশাপাশি একটা প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতাম। যে টাকা বেতন দিতো কোন রকম পেট চলতো। পড়ালেখার টাকা মা ভিখুকের কাজ করে জোগার করতো,

খুব ভালো খাবার খেতে পারতাম না। নিন্ম মানের চালের ভাত আর কাচা মরিচের ঝাল পেয়াঁজ হলেই পেট ভরে খেতে পারতাম।
মাজে মাজে মা বড়লোকদের আধা খাওয়া বাঁশি পচা খাবার নিয়ে আসতেন।
আমার চোখ খাবারের লোভে চকচক করতো গপাগপ গিলতাম।
খাবের শেষে তৃপ্তিকর ঢেঁকুর সাথে মায়ের দিকে তাকাতাম দেখতাম মায়ের চোখে জল টলমল করছে,,
আমি তাকালেই মা চোখের জল আড়াল করে আচল দিয়ে মুছতো আর বলতো। বাজান চোকে মনে অয় সমেস্যা দেহা দিচে। খালি পানি পরে চোক দিয়া।
তোই কবে বড় অইবি বাজান? আমারে মেমসাব গো মতন একটা সসমা কিন্না দিবে কবে?

আমার গলা ধরে আসে। আমি তো জানি আমার মায়ের চোখের জলের উৎস।
আমাকে বড় হতে হবে অনেক বড়,,
প্লাস্টিক কারখানার চাকরি ছেরে দিলাম মালিকটা খালি প্যানপ্যান করে,, কিছু হলেই মায়েরে নিয়া বাজে কথা বলে,,,
কিছুদিন চুক্তি রিক্সা নিলাম জাবেদ চাচার কাছ থেকে।
স্কুলের সময় স্কুলে যেতাম বাকী সময় রিক্সা চালাতাম।

একদিন এক বড়লোক ছেলে আর তার গ্যলফ্রেন্ড নিয়া গ্রিনরোড থেকে রবিন্দ্র সরোবর যাইতেছিলাম, রিক্সায় বসে বসে তারা আজ কত টাকার শপিং এবং খাওয়া দাওয়া করলো। সব কিছুর হিসেব করছে।
মনে মনে বেশ খুসি হলাম বাড়ার পাশাপাশি চাইলে কিছু বকখশিও পেতে পারি আজ। রবিন্দ্র সরোবর বললাম স্যার নামেন ওনারা নামলেন।
ছেলেটি একটা দশ টাকার নোট ধরিয়ে দিলো আমি বললাম স্যার হয়নাতো আর দশটা টাকা দেননা স্যার।
লোকটা আমার কলারে ধরে বললো চুপচাপ চলে যা ছোটলোক কোথাকার।
মেয়েটি বললো কি দরকার বাবু?  এইসব ছোট লোকদের গায়ে হাত তুললে তোমার হাত নোংরা হবে। এই লোকের গায়ে জিবাণু থাকে,, চুপ করে নিরবে চলে আসলাম, গরিবের জন্ম ই তো মার খাবার জন্য। চোখের জল মুছে চলে আসলাম।

জাবেদ চাচার গ্যারেজে রিক্সা জমা দিয়ে আমাদের বস্তির খুপরিতে ডুকলাম।  মা বাতাস দিতে লাগলো আমি মুড়ি খেয়ে পড়তে বসলাম।
সামনে আমার এস এস সি  অনেক কস্টে আমি আর মা ফরম ফিলাপের টাকা জোগার করেছি।
আমি পরছি মা বাতাস করছে মাঝে মাঝে মায়ের চোখের দিকে তাকাই। মায়ের চোখে রাজ্যের সপ্ন ভাসে। যে সপ্নে ভিবোর হয়ে সারাদিনের কস্ট ভূলে যায় আমার মা। আর আমি মায়ের সপ্নভরা চোখের দিকে তাকিয়ে অদ্যম হয়ে উঠি আরো ঝোরে পড়তে থাকি।

এস এস সি এইচ এস সি দিলাম দুইটা তেই গোল্ডেন প্লাস পেয়েছিলাম পেপারে ছবি ও দিয়েছিলো। সাংবাদিক যখন এসেছিলো ছবি নিতে। গত রমজানে এক সাহেবের জাকাতের দেয়া শার্টটা পড়েছিলাম, আহা কি সুবাস লাগছিলো নতুনের ছুয়া। খুব সুন্দর একটা ছবি উঠেছিলো হয়তো নতুন শার্ট নয়তো দামী ক্যামরা।

আমার মাকে এস এস সির রেজাল্ট এর পর বলেছিলাম। মা আমি গোল্ডেন প্লাস পাইছি।
তখন আমার মা বলেছিলো কিরুম্মা পিলাচ বাজান?
ঐযে কারেনের কাম করে?
কত বেচন যাইবো পিলাচটা?
বেচতে পারলে এক কেজি চাইল কিনিচ বাজান।
আজকে ঘরে চাইল নাই। তই বাজান নকত বেচন যাইবোনি বাজান?

আমি কিছু বলিনি সেদিন কান্না চেপে ধরে রেখেছিলাম।
মা চলে যাবার পর চিৎকার করে কেঁদেছিলাম,,
ফুলবানু খালা উকি মেরে দেখছিলো আমায়। ভাবছিলো হয়তো বড় পাস দিছি তাই আনন্দে কাঁদছি।

একদিন আমি রিক্সার উপর বসে গামছা দিয়ে গাম মুছছি। এমন সময় দেখছি আমার মা কোন এক সাহেবের গাড়ির জানালার সামনে দাড়িয়ে অনুরুধ করছে। ছার ও ছার আমার পোলারে ভারসিটিতে ভত্তি করামু কয়টা টেহা দিয়া সাহায্য করেন না ছার আল্লাহ্‌ আপনের ভালা করবো।  সাহেব কি বললো তা আমি শুনিনী। তবে মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলো। আমার মায়ের হাত ভেঙে গিয়েছিলো নিস্টুর কালো পিচঢালায় পরে।
বেথায় কঁকিয়ে উঠছিলো আমি দৌড়িয়ে গিয়ে মাকে কোলে করে বস্তিতে নিয়ে আছিলাম।

আমার মা বেথায় নয় লজ্জায় মুখ লুকাতে চেয়েছিলো,, কারন আমার সামনে তিনি ধাক্কা খেয়েছিলেন।
ডাক্তারের কাছে নিতে পারিনি টাকা ছিলোনা। ফুলবানু খালায় প্রতিদিন তেল গরম করে মায়ের হাতে মালিশ করে দিতো দিতো। যদিও মায়ের হাতটা এখনো সোজা হয়নি তবে দিরে দিরে বেথা কমে গিয়েছিলো।

আমি মাকে একটা টং দোকান ভাড়া করে দিয়েছি।  সেখানে মা পান সিগারট বিক্রি করে।

আমি ঢাকা ভারসিটিতে এডমিট হয়েছি আমার অনেক ফ্রেন্ডস। একদিন স্যার বললো ফারাবী তোমার নিজের লাইফের কথা বলো শুনি।
সেদিন সব বলেছিলাম বলার পর আমার আর কোন ফ্রেন্ডস নেই। তারা আমাকে ছেরে দিয়েছে কেমন করে জানি কথা বলে।
একদিন তো সোয়ান আবিরকে বলেছে দেখ আবির ফারাবী ফক্কির পোলাকে পাত্তা দিবিনা।
তারা হয়তো ভেবেছিলো আমিও কোন বড়লোক ক্রিমিনালের জাত কিন্ত না আমি তো ফক্কির সন্তান।

হঠাৎ পিয়নের ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম। এতখন অথিতে ডুবে ছিলাম। আমি এখন ম্যাজিস্ট্রেট।
সেদিনকার বড়লোক সোয়ান আবরদের স্যার হ্যা ওরা আমাকে এখন স্যার বলে ডাকতে হয়।
টাকা পয়সা ধন সম্পদ মান সম্মান সব আছে।
আরো আছে আমার জান্নাত  আমার ভিখারী মা।
না তিনি এখন ভিখারী নন তিনি এখন ম্যাজিস্ট্রেট এর মা।

সেদিন পেপারে বিজ্ঞাপন দিলাম পাএি চাই।
শিরোনামে ঠিকানা দিয়ে দিলাম। কোন এক মেয়ের বাবা  পরের দিন বাসায় এসে হাজির। আমি আমার মা এবং বাসার সব কিছু পছন্দ হলো উনার। উনার বাসার ঠিকানা দিলেন। কোনো একদিন আমি রিক্সা চালাতাম আমার মা রিক্সায় বসে থাকতো।
আজ আমি নিজের গাড়ি চালাই মা আমার পাশে বসে আছেন। মেয়ের বাসার সামনে গাড়ি রাখলাম।

বাসার বিতর ডুকলাম বেস সাদর জানালো। মেয়ের মা নাস্তা দিলেন আমাদের কে।
কিছুখন পর মেয়ে আসলো লম্বা গুমটা দিয়া। দুইটা মেয়ে দুপাশে ধরে নিয়েছে।
আমার মা বললেন ঘোমটা সরাতে।
আমি মেয়ের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলাম।
এটা তো তমা *
যার পিছনে আমি কলেজ জিবনে গুরতাম। তমা আমার দিকে তাকিয়ে হাসি দিলো। সেকি আমাকে চিনতে পেরেয়েছে?
চিনার কথা নয় সেদিনকার কালো চিকুন ফিরাবী আজ অনেক স্মার্ট।

আমি বললাম মেয়র সাথে একটু কথা বলবো সবাই রাজি হলো। আমি আর তমা ছাদে গেলাম।

আমি কয়একটা কাঁশি দিলাম।
তমা→ পানি খাবেন?
আমি→নাহ্
তমা→কেমন আছেন?
আমি →তুমি কেমন আছো তমা?
তমা→আপনি আমার নাম জানলেন কেমন করেরে?
আমি→ নাহ্ এমনি, আমাকে তোমার পছন্দ হয়েছে?
তমা→জ্বী
আমি→আমার পরিচয় জানো?
তমা→আপনি একজন ম্যাজিস্ট্রেট এতটুকু জানি।
আমি→নাহ্ এর বাহিরে ও একটা পরিচয় আছে।
তমা→সেটা কি বলুন
আমি→আমি ফারাবী কোন এক ভিখারির সন্তান তোমার পিছনে ঘুরতাম চিনতে পরেছো?
তমা→আপনি?  আপনি এত বড় হলেন কেমন করে?

আমি রহস্যময় হাঁসি দিলাম সে হাঁসির মানে এক একজনের কাছে এক একরকম। তমার চেহারায় অবিশ্বাসের ছাপ দেখতে পেলাম,,

আমি পিছন হয়ে দাড়িয়ে আছি আকাশ প্রাণে তাকিয়ে কত গুলো পাখী উরছে দেখতে ভালো লাগছিলো। তমার দিকে তাকাতে পারছিনা।

তমা আমার দিকে অভাক চোখে চেয়ে আছে।

হঠাৎ কোথায় থেকে যেনো একটা গান বেজে উঠলো। একুল ভেঙে অকুল গরে এইতো নদির খেলা। সকাল বেলার ধনীরে তোই ফকির সন্দা বেলা

No comments:

Post a Comment

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫