[X]

রামগঞ্জে মাদ্রাসার সভাপতি অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত

এই দেশে আর কত ,অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, চলবে জানতে চায় এদেশের সাধারণ মানুষ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ফতেহপুর জে ইউ ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদকে আজ দুপুরে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান মাসুদ মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারীর বেতন ভাতা আটকিয়ে রাখার বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের জানানো দায়ে  নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে। পরে অধ্যক্ষকে অজ্ঞান অবস্থায় সহকারী শিক্ষকরা  উদ্ধার করে রামগঞ্জ ফেমাস হাসপাতালে  ভর্তি করে। ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক শিক্ষার্থীরা ক্লাশ বর্জন করে। এ নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে ও অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান মাসুদ মাদ্রাসার বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ম বর্হিভূত বাধা দেয়ার কারনে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা হয়ে পড়ে এবং প্রায় নির্ধারিত সময়ের পরও  শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আটকিয়ে রাখে । ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন ৮মার্চ ব্যাংকে  আসলে  অদ্যবধি সভাপতি স্বাক্ষর না দেয়ায় বেতন উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।এতে শিক্ষকরা পারিবারিকভাবে কষ্ট পায়। অধ্যক্ষ বার বার সভাপতিকে মোবাইলে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। পরবর্তিতে এ বিষয়  অধ্যক্ষ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে। এতে সভাপতি ক্ষীপ্ত হয়ে আজ বুধবার দুপুরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী নুর হোসেনকে বাড়িতে ঢেকে নিয়ে বেতন বইতে স্বাক্ষর দিয়ে অফিস সহকারীকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দিয়ে অধ্যক্ষকে এলোপাতাড়ি  চড়-থাপ্পড়, লাথি মেরে আহত করে।
অফিস সহকারী নুর হোসেন জানান, অধ্যক্ষের সাথে আমি সভাপতির বাড়িতে গেলে সভাপতি বেতনের বইতে স্বাক্ষর করে, আমাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেয়। প্রায় আধা ঘন্টার অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় বিষন্ন অবস্থায় এসে সভাপতি তাঁকে মারধরের ঘটনা বলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাও.একেএম ইউছুফ জানান, অফিস সহকারী নুর হোসেন মাদ্রায় আসার কিছুক্ষন পর অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় এসে ঘটনা বলে অজ্ঞান হয়ে পড়লে। আমরা মাদ্রাসা ছুটি দিয়ে রামগঞ্জে ফেমাস হাসপাতালে ভর্তি করি এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে  অবগত করি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভূইয়া জানান, আমি লামনগর একাডেমীর ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচনে এসেছি। তবে বিষয়টি উপাধ্যক্ষ  আমাকে মোবাইলে বিষয়টি  অবগত করেছে।
মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান মাসুদ জানান, অধ্যক্ষকে আমি কিছুই করিনি। বরং তিনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ায় আমিসহ শিক্ষকরা  উদ্ধার করে হসপিটালে ভর্তি করিয়েছি। অধ্যক্ষ অযোগ্য তিনি মাদ্রাসায় কোন সভা-সেমিনারের বিষয় আমাকে অবগত করে না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু ইউসুফ জানান, একজন অধ্যক্ষের গায়ে হাত তোলা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না, এটা অত্যান্ত দুঃখজনক। মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক আমার সাথে দেখা করেছেন। এছাড়া শিক্ষকদের বেতন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না দিয়ে আটকিয়ে রাখা সভাপতির কাজ নয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫