অ্যাপসটি সবাই কেন ব্যবহার করতে চায়। কারণ হচ্ছে এতে রয়েছে সকল ধরনের সবিতা। জিটিভি লাইভ খেলা, রেডিও ,টিভি, নিউজ পেপার ,পুলিশের নাম্বার ,লাইভ ক্রিকেট খেলার ,cricket scores ,football scores , অডিও কোরআন শরীফ শুনতে ও পড়তে পারবেন , আরো রয়েছে আপনার সন্তানের পরীক্ষার রেজাল্ট বাহির করতে পারবেন ,ইত্যাদি সকল বিষয়। এবং আরো রয়েছে অনেক ধরনের সুবিধা যেমন আপনি যেখানে ১২ থেকে ১৫ টা সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে । সেখানে আপনি মাত্র চার এমবি একটা সফটওয়্যার ইন্সটল করে সব কাজ করতে পারেন। কোন জামেলা ছাড়াই । এবং ফ্রিতে ইন্সটল করতে পারেন কোন play store সমস্যা পড়তে হবে না । ডাউনলোড লিংক দেওয়া হল ভালো লাগলে ডাউনলোড করে ব্যবহার করবেন ধন্যবাদ সবাইকে

সিলেটে ডাবল মার্ডার : গৃহপরিচালিকা কে খুঁজছে পুলিশ

সিলেট প্রতিনিধি :: সিলেটে নিজ নিজ শয়নকক্ষে মা-ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ওই বাসার গৃহকর্মীর খোঁজে নেমেছেন তারা।
এদিকে জীবিত উদ্ধার হওয়া সাড়ে ৩ বছরের শিশু রাইসাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ।
রোববার সকালে সিলেট নগরীর মিরাবাজার খারপাড়া ১৫/জে নং বাসার নিচতলা থেকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের হেলাল আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪০) ও ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৬) লাশ তাদের নিজ নিজ শয়নকক্ষে পায় পুলিশ।
এসময় বাসা থেকে রাইসা নামে সাড়ে ৩ বছরের এক শিশুকন্যাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহত পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়ার গৃহকর্মী তানিয়ার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, গত শুক্রবার রাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে লাশে পঁচন ধরেছে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত রোকেয়ার ভাই জাকির হোসেন বলেন, রোকেয়ার সঙ্গে বাসায় তানিয়া (১৬) নামের এক গৃহকর্মী থাকত। ঘটনার পর তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, মাসখানেক আগে থেকেই রোকেয়া তাকে জানিয়েছিলেন, বাসায় তার বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে, বাসা বদলানো দরকার। ১৫-২০ দিন আগে একদল যুবক বাসা থেকে মোবাইল নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় মুরুব্বীরা বিচার করে সেটা সমাধান করে দেন।
জাকির আরো বলেন, ভগ্নিপতি জগন্নাথপুর উপজেলার হেলাল আহমদের সঙ্গে বোনের বনিবনা হচ্ছিল না। তাই তিনি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। গত রমজান মাসে হেলাল আহমদ স্ট্রোক করার পর তার পরিবারের সঙ্গে নগরীর বারুতখানায় একটি বাসায় থাকেন।
নিহত রোকেয়ার ভগ্নিপতি ফারুক আহমদ বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ ছিল। আমরা ধারণা করেছি, ঝড়-বৃষ্টির কারণে মোবাইলে চার্জ নেই। এ কারণে রোববার সকালে আমি তাদের সন্ধানে বাসায় আসি।
তিনি বলেন, বাসার দরজা বন্ধ থাকায় অনেকক্ষণ দরজা ধাক্কা দিই। কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ পাইনি। পরে বাসার মালিকের ভাইকে নিয়ে আসি। জানালা দিয়ে দেখি ঘরের মধ্যে বিছানায় লাশ পড়ে আছে। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর দিনার খান হাসুর মাধ্যমে পুলিশকে জানাই।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দিনার খান হাসু বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পুলিশ দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে লাশ দেখতে পায়। দু’টি পৃথক শয়নকক্ষে রোকেয়া আর তার ছেলের লাশ পাওয়া যায়।
তিনি জানান, এসময় ঘরে ক্রন্দনরত সাড়ে ৩ বছরের শিশু রাইসাকে উদ্ধার করা হয়। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
বাসার মালিক মো. সোলেমান হোসেন সালমান বলেন, রোকেয়া বেগম বছরখানেক আগে তার বাসায় উঠেছিলেন। তিনি একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন এবং তার ছেলে মীরাবাজারের একটি মাদ্রাসায় পড়তো।
তিনি জানান, নারী ভাড়াটিয়া হওয়ায় তার বাসায় সবসময় যাতায়াত ছিল না। বাসার সামনের রুমের লাইট বন্ধ থাকতো সবসময়। বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা এ ঘটনার কিছুই টের পাননি।
তবে সকালে রোকেয়ার ভগ্নিপতি ফারুক আহমদ এসে বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে পুলিশকে জানিয়েছেন। এরপর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই রুমে দুইজনের মরদেহ পাওয়া যায়।
সিলেট মেট্রোপলিট পুলিশের কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গৌছুল হোসেন বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তার সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। গত কয়েকদিনে এ বাসায় কাদের যাতায়াত হয়েছে, তারও খোঁজ নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাশাপাশি গৃহকর্মী তানিয়ার সন্ধান চলছে। ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে শিশু রাইসার ভাষ্য থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে যা তদন্তে কাজে লাগতে পারে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, রোকেয়া বেগম ও তার দুই ছেলেমেয়েকেই মারতে চেয়েছিল ঘাতকরা। উদ্ধার করা শিশুটিরও শ্বাসরোধ করা হয়েছিল। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় মৃত ভেবে ঘাতকরা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তার জ্ঞান ফিরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোকেয়া বেগমের শরীরের বেশ কয়েকটি স্থানে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আর ছেলেটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মূল ঘটনা তদন্তের পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে পুলিশ নিহত রোকেয়ার বাড়ি থেকে তার ব্যবহৃত কম্পিউটারটি জব্দ করেছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া শিশু রাইসাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
বেলা পৌনে ২টার দিকে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। এসময় পিবিআই ও র্যাবের আলাদা দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
বিকালে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি শেষে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
আলোচিত এই জোড়া খুনের ঘটনার খবর পেয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়াও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

No comments:

Post a Comment

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫