[X]

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ : রুহুল কবির রিজভী

বিএনপি'র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন 'বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বর্তমান অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সাজানো মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করার পর তাঁকে সুচিকিৎসা না দেয়ায় প্রতিনিয়ত তাঁর শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটছে। গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর স্বজনরা দেখা করেছেন। বেগম জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ'।

বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ।

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।
সাংবাদিক বন্ধুরা,
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বর্তমান অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সাজানো মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করার পর তাঁকে সুচিকিৎসা না দেয়ায় প্রতিনিয়ত তাঁর শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটছে। গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর স্বজনরা দেখা করেছেন। বেগম জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ। পুরাতন, জ¦রাজীর্ণ, নোংরা, স্যাঁতসেতে মেঝেতে ইঁদুর তেলাপোকায় ভরা পরিত্যক্ত রুমে বেগম খালেদা জিয়াকে থাকতে হচ্ছে। এটি তাঁকে নিয়ে সরকারের নিষ্ঠুর নির্যাতনের নানামুখী নির্যাতনের পদক্ষেপের একটি। দীর্ঘদিন থেকে তাঁর ঠান্ডা জ¦র সারছেই না। বেগম জিয়া নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁর ইচ্ছানুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তাঁকে কষ্ট দিয়ে তিলে তিলে তাঁর শারিরীক অবস্থা আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁকে চিকিৎসা না দিয়ে প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন সরকার প্রধান। গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো শেখ হাসিনা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে নিষ্ঠুর রসিকতা করেই যাচ্ছেন। বন্ধুরা, নিজের সন্তুষ্টি অনুযায়ী চিকিৎসা পাওয়া যেকোন বন্দীর অধিকার। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশে^র দেশে দেশে যারা বন্দী বা রাজবন্দী আছে তাদের প্রতি সরকারগুলো কতটা মানবিক ব্যবহার করে। কিন্তু ভোটারবিহীন সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যে আচরণ করছেন তা অমানবিকতারই বহিঃপ্রকাশ। আমি দলের পক্ষ থেকে আবারও বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করে সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দেশনেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।
বন্ধুরা,
সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সড়কে নিহত হচ্ছে ২০ জন। গত সাড়ে তিন বছরে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে ২৫ হাজার মানুষ। আহত হয়েছেন ৬২ হাজার মানুষ। সড়কে দীর্ঘ মৃত্যুর-মিছিলের জন্য দায়ী সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ও সরকারের অনাচারমূলক নীতি। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার নিরাপদের সড়কের জন্য কোন নীতিমালা তৈরি করতে পারেননি। আপনারা নিশ্চয় ভূলে যাননি নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের ঘোষনা, সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য বিভিন্ন সংগঠন যখন আন্দোলন করছিলেন তিনি তখন আন্দোলনকারীদের উপর লেলিয়ে দিয়েছিলেন তার পোষা শ্রমিকদের। তখন তিনি বলেছিলেন রাস্তায় গরু ছাগল চিনতে পারলেই তাঁেক লাইসেন্স দেওয়া হবে। সরকারও তাঁর দাবি মেনে নিয়ে শাজাহান খানের বাহিনীকে উৎসাহ দিয়েছিল। তাই গরু ছাগল বাচাঁতে গিয়ে আজ শিশু কিশোরসহ সব বয়সী মানুষদের বাসের চাকার নিচে ঠেলে দিয়েছে শাহজাহান খানরা, থামেনি সড়কে মৃত্যুর মিছিল। গতকালও দেখছেন কিভাবে মগবাজারে বাস পিষে মারল এক যুবককে, টাঙ্গাইলে ১০ম শ্রেনীর ছাত্রীকে, ধামরাইয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হলো আরও ৪ জন, এছাড়াও কুমিল্লায় আরেক ছাত্রীসহ গতকাল সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হলো আরও ১০ জন।
সাংবাদিক বন্ধুরা
নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর গতকালও হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল ধানমন্ডিতে বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। সাংবাদিকরা হামলার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রিয়.কমের অফিসে। তাদের অফিসে ব্যাপক ভাংচুরও করেছে ছাত্রলীগ। এ সময় সাংবাদিকদের উপরও হামলা করা হয়। আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করছি।
বন্ধুরা,
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেজন্য আজ রাজধানীর মোড়ে মোড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনকে মনিটরিংয়ের নামে দাঁড় করিয়ে রাখা হবে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। যদি আওয়ামী লীগ এ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে তাহলে জনগণ ও অভিভাবকরা তাদের ক্ষমা করবে না, এর পরিণাম শুভ হবে না। ভোটারবিহীন সরকারকে শুধু জনগণই নয়, শিশু থেকে শুরু করে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষাথী পর্যন্ত সকল স্তরের শিক্ষার্থীরা বিশ^াস করে না।
বন্ধুরা, বিখ্যাত পোলিশ তাত্ত্বিক, দাশনিক, যুদ্ধবিরোধী কর্মী রোজা লুক্সেমবার্গ বলেছিলেন-ঞযড়ংব যিড় ফড় হড়ঃ সড়াব, ফড় হড়ঃ হড়ঃরপব ঃযবরৎ পযধরহং. -এই কথাটি যেন উপলব্ধি করেই উদ্দীপ্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। বিদ্যার্থীরা যেন তাদেরকে নির্যাতনে বেঁধে রাখার শিকলকে চিনতে পেরেছে, অকাল মৃত্যুর দানবকে চিহ্নিত করতে পেরেছে বলেই তারা আজ নির্যাতনকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিচল, অকম্প, উদ্বেল আন্দোলনের মহা¯্রােত বইয়ে দিতে পেরেছে। দূর্নীতির দুষ্ট চক্রে গোটা দেশকে বন্দী করেছে এই ভোটারবিহীন সরকার। অদক্ষ ড্রাইভার, ত্রুটির্পণ গাড়ী, বেহাল সড়ক, ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ীকে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান, এই সমস্ত অনাচারের জন্য দায়ী অবৈধ সরকার, বিশেষভাবে দায়ী সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং পরিবহন নেতা নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। আর এই অব্যবস্থাপনার কারণেই পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা চলছে। আর এজন্য কিশোর-কিশোরীদের সজীব প্রাণগুলি প্রতিনিয়ত বাসের চাপায় পিষ্ট হচ্ছে, আর মন্ত্রীরা হায়েনার হাসি হাসছেন। সমগ্র ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যার্থীরা।
মন্ত্রীদের নির্দেশে আজকেও দেশব্যাপী গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কষ্ট দেয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই গণপরিবহন বন্ধ করেনি। মূলত: পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্যকারীদের হুকুমেই পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আজকের আন্দোলনে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে অবস্থান করছে। সরকার সুদীর্ঘ বাহু বিস্তৃত করে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনকে দমানোর এক মহাপ্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছে। তারপরও ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন বেগবান। অত্যাচারী খড়গকৃপানকে ধুলোয় লুটিয়ে তারা বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের এই অনবদ্য ভূমিকা ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় হয়ে থাকবে। শিক্ষার্থীদের এই অভিনব প্রতিবাদ যেন অত্যাচারিত জনগণের অন্ত:রুদ্ধ ক্ষোভের বহি:প্রকাশ। বর্তমান সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
শিক্ষার্থীদের চলমান ন্যায্য আন্দোলনকে জনদৃষ্টি থেকে ভিন্ন দিকে ফেরাতে শিক্ষার্থীদের ছদ্মাবরণে ছাত্রলীগ-যুবলীগ গাড়ী ভাংচুর, গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ সবই করছে ছাত্রলীগ। গতকাল মগবাজারে বাসচাপায় যুবক নিহতের ঘটনায় যে বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, সেটিও দাঁড়িয়ে থেকে করেছে ছাত্রলীগ। আজ ছাত্রলীগ জুরাইনে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন এর সিএনজি পাম্পে হামলা চালিয়েছে।
গতকাল চট্টগ্রাম মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফাতেমা বাদশাকে এবং ঢাকার নবাবগঞ্জে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পবন মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক পল্লব হোসেনকে এখন থেকে কিছুক্ষণ আগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এমপি সালাহউদ্দিন সাহেবের সিএনজি পাম্পে ছাত্রলীগের এই কাপুরুষোচিত হামলার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি করছি।
চট্টগ্রাম মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফাতেমা বাদশাসহ ঢাকার নবাবগঞ্জের যুবদল নেতৃদ্বয়কে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫