[X]

রামগঞ্জে আলোচিত নুশরাত ধর্ষন ও হত্যার ঘটনা ভীন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা- ধর্ষক রুবেলের বাবা মামলা করলেন লুটপাটের


রামগঞ্জ (লক্ষীপুর)প্রতিনিধি : খুনী রুবেল কর্তৃক এক মাত্র মেয়ে নুশরাতকে ধর্ষন শেষে হত্যাকান্ডের কোন বিচার না পেলেও উপরুন্ত লুটপাটের মামলার আসামী হলেন ধর্ষিতার পিতা মোঃ এরশাদ মিয়া । গত ১লা আগষ্ট ধর্ষক ও ঘাতক রুবেলের পিতা মাদক ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম লুটপাটকৃত ১৫লক্ষ টাকার ক্ষতিপুরনের দাবিতে হত্যাকান্ডের শিকার নুশরাতের পিতা মোঃ এরশাদ মিয়াকে প্রধান আসামী ১৪ জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জুডিসিয়াল আমলী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সিআর ২১৯/১৮ মামলা দায়ের করেন। আদালতে মামলা করার রামগঞ্জ থানার ওসিকে আগামী ২৫ সেপ্টম্বরের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। তারই আলোকে রামগঞ্জ থানার এসআই মোঃ তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নুশরাতের পরিবারের মধ্যে আহাজারি চরম আকার ধারন করে। মেয়ে হারানোর শোকের ক্ষত না শুকাতেই উল্টো মিথ্যে মামলার আসামী হওয়ার খবর ১০ সেপ্টম্বর সোমবার সকালে উপজেলাব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে সকল শ্রেনী-পেশার লোকজনের মাঝে সর্বত্র চরম ক্ষোভ ও মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। দীর্ঘ ৬ মাসেও নিজেদের সান্তনা দিতে পারছে না নুশরাতের মা রেহানা বেগম ও তার বাবা মোঃ এরশাদ মিয়াসহ পরিবারের লোকজন। মেয়েকে হারিয়ে রাত-দিন শুধু আহাজারি করছেন। আত্মীয়-স্বজনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী শত চেষ্টা করেও মা রেহানা বেগম ও বাবা এরশাদ মিয়াকে শান্তনা দিলে মেয়েকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় হয়ে পড়েছেন বাবা মা। নুশরাতের মা রেহানা বেগম ও বাবা এরশাদ হোসেন জানান, আমরা আর বেঁচ থেকে লাভ কি। নিজের মেয়ে নুশরাতকে হারিয়ে এখন আমরা এখন উল্টো ১৫লক্ষ টাকার লুটপাট মামলার আসামী। কারা এ মিথ্যে মামলা নিলো ? আমার মেয়েকে নেক্কারজনকভাবে ধর্ষন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। আসামী গ্রেফতার হয়েছে। থানা পুলিশ, কোর্ট কাছারীতে জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছে রুবেল কিভাবে আমার কলিজার টুকরাকে কেড়ে নিয়েছে। লুটপাট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তাজুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুর কোর্টে একটা মামলা হয়েছে। ওই মামলার এজহারের কপি হাতে পেয়ে তদন্তের জন্য আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ শাহাদাত হোসেন শরীফ জানান, নুশরাতে হত্যার পর থেকে জেলা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ নুশরাতের পরিবারের পাশে থেকে শোকাহত পরিবারকে শান্তনা দিয়েছি। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো। আর নুশরাতের বাবা-মা ও আতœীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা করায় আমি তীব্র নিন্দা এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা আকম রুহুল আমিন জানান, ধর্ষন শেষে শিশু নুশরাতকে হত্যা করা হয়েছে। এটা দেশব্যাপী আলোচিত বিষয়। উত্তেজিত লোকজনরাই ঘটনার দিন ধর্ষক রুবেলের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। ওই দিন শুধু বাড়িঘর নয় উত্তেজিত জনতা তখন রুবেলকে সামনে পাওয়া মাত্রই মেরেই ফেলতো। আর যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন সেখানে নুশরাতের বাবার বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা অত্যান্ত দুঃখজনক। আমি এই মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী সুরাইয়া আক্তার শিউলী জানান, ধীক্কার জানাই। এতবড় ঘটনাকে ভীন্নখাতে প্রবাহিত করতে যারা উঠে পড়ে লেগেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান, যেন একটি সত্য ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে কোন অন্যায় ও মিথ্যা ঘটনার জন্ম দেয়া না হয়। তাহলে মানুষক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারাবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ মার্চ শুক্রবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নজুমুদ্দিন বাড়ীর (কালু মেস্তুরির বাড়ীর) প্রবাসী এরশাদ হোসেনের মেয়ে ও স্থানীয় পশ্চিম নোয়াগাঁও ফয়েজুল রাসূল সুন্নিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান (৭) বাড়ী থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের তিনদিন পর ২৬ মার্চ পাশ্ববর্তি ভ্রহ্মপাড়া এলাকার খাল থেকে ব্যাগ ভর্তি অর্ধগলিত নুশরাতের লাশ উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। এ নিয়ে সারাদেশে তোলপাড়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্বেচ্চাসেবি সংগঠন, স্কুল কলেজ শিক্ষার্থী ও ঢাকা ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে হাজার হাজার মানুষ শিশু নুশরাত হত্যাকান্ডের ঘটনার মূল আসামীকে গ্রেফতার করতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তোতা মিয়ার কৌশলী হস্তক্ষেপে নুশরাত হত্যাকান্ডের মূল হোতা একই বাড়ীর সর্ম্পকৃত চাচা মোঃ রুবেলকে খুলনার একটি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তিতে রামগঞ্জ থানা পুলিশ লক্ষ্মীপুর জেলা জজ কোর্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুানাল মামলাটি গ্রহন করে।

No comments:

Post a Comment

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫