[X]

ঝুঁকিপূর্ন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন করার দাবী


ঝুঁকিপূর্ন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন করার দাবী রামগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান দূর্ঘটনার আশঙ্কায় শঙ্কিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর মনসা উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ন ভবনে বিগত তিন বছর যাবত স্কুল কর্তৃপক্ষ পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রতিনিয়তে দূর্ঘটনার আশঙ্কায় শঙ্কিত থাকছেন বিদ্যালয়ের ৭শত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা । তাঁরা সরকারী বরাদ্ধকৃত ৪তলা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ন ভবন ভেঙ্গে করার দাবী জানান। অভিভাবক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে নির্মিত বর্তমান স্কুল ভবনটি ২০১৭ সালে ছাদ ও ওয়ালে ফাটল ধরে এবং একটু বৃষ্টিতে পানি পড়তো। সে সময় কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় ঝুঁকিপূর্ন ভবনে ক্লাশ করার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন না করে,শ্রেনী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে স্কুল ফান্ডের ১৩লক্ষ টাকা ব্যয় করে ভবনটির ফাটল বন্ধ,আস্তর ও রং করে নেয় এবং কৌশলে ছাদের উপর টিন সেটের কয়েকটি শ্রেনী কক্ষ তৈরী করে পানি পড়া বন্ধ করে। বর্তমানে ভবনটি আরো বেশী জরাজীর্ণ ও ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়ে। চলতি অর্থ বছরে সরকারী ভাবে স্কুলের জন্য একটি ৪তলা ভবন বরাদ্ধ পায়, এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে স্থতি ফিরে আসে। কিন্তু সরকারী বরাদ্ধকৃত ভবনটি প্রধান শিক্ষকসহ একটি মহল ঝুঁকিপূর্ন ভবন রেখে স্কুলের খেলার মাঠ নষ্ট করে পাঁয়তারা কওে এবং ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিয়ে মাঠের মধ্যে সয়েলটেষ্ট করিয়ে নেন।এতে করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সোমবার (১৩এপ্রিল) ফয়েজ আহম্মদ, মাসুদসহ অর্ধশতাধিক অভিভাবক ও এলাকাবাসী স্কুলে উপস্থিত হয়ে কমিটি ও প্রধান শিক্ষককের কাছে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নষ্ট না করে ঝুকিপূর্ন ভবন ভেঙ্গে ওই স্থানে নতুন ভবন করার জোর দাবী জানান। স্থানীয় অভিভাবক মোঃ মাসুম জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ অভিভাবক, এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও কমিটির দাবী উপেক্ষা করে মনগড়াভাবে জরাজীর্ন ভবনটি রেখে ও স্কুলের খেলার মাঠ নষ্ট করে নতুন ভবন করার পাঁয়তারা করছেন। পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন করা হলে খেলা ধুলার মাঠ রক্ষা পাবে এবং স্কুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, বিগত ৩ বছর থেকে ঝুঁকিপূর্ন ভবনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাঠদান চালিয়ে আসছেন, এতে অভিভাবকরা প্রতিনিয়তে শঙ্কার মধ্যে থাকলেও মেনে নিতে বাদ্ধ হয়েছে। কিন্তু সরকারীভাবে নতুন ভবন অনুমোদন হওয়ার পর পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ন ভবন রেখে স্কুলের খেলার মাঠ নষ্ট করে নতুন ভবন নির্মান করাটা কেউ মেনে নিবে না। প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, বর্তমান স্কুল ভবনটিতে ৩ বছর পূর্বে বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে পানি পড়ে জরাজীর্ন হয়ে পড়ে। তখন অন্য কোন উপায় না থাকায় তৎকালিন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভবনটি মেরামত করে ক্লাশ চালিয়ে আসছি । নতুন ভবনটি কোথায় হবে সে ব্যাপারে চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না হওয়ায় মাঠে সয়েল টেষ্ট করিয়ে নিয়েছি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুর রহমান শাহীন জানান, এলাকাবাসী,অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের দাবী স্কুলের মাঠ রক্ষা করে পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন করা। আমরা কমিটির লোকজনও সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্কুলের সৌন্দর্য ও মাঠ রক্ষা করে পুরাতন ঝরাজীর্ণ একতলা ভবনটি ভেঙ্গে সরকারী বরাদ্ধকৃত নতুন ভবনটি ওই স্থানে করা হবে। ইতোমধ্যে সকল কার্যক্রম শেষ করেছি। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। এছাড়াও নির্মানকাজ চলাকালীন ক্লাশ পরিচালনায় যেন ব্যাঘাত না ঘটে সে জন্য বিকল্প ব্যাবস্থা গ্রহনের পরিকল্পনা ও প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান ভূইয়া জানান, আমরা চাই না সরকারী স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটুক। স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজনকেই এগিয়ে আসতে হবে সমাধানে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫