[X]

বেনাপোলের মাদ্রাসা ছাত্র শাহ পরান হত্যা মামলার আসামি হাফেজ হাফিজুর রহমান আটক

শেখ কাজিম উদ্দিন : বেনাপোলের কাগজপুকুর খেদাপাড়া হেফজুল কোরআন এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্র শাহ পরান(১২) হত্যা মামলার আসামি হাফেজ হাফিজুর রহমানকে আটক করেছেন শার্শা থানা পুলিশ। বুধবার(১২ জুন) বেলা ১১ টার সময় থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান যশোরের নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান।

মঙ্গলবার রাতে তাকে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আরাবিয়া ক্বওমি মাদ্রাসা থেকে আটক করেন শার্শা থানার ছদ্মবেশী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মামুনুর রশিদ। আটককৃত হাফিজুর বেনাপোলের কাগজ পুকুর খেদাপাড়া হিফজুল কোরআন এতিমখানা মাদ্রাসার শিক্ষক ও মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের ইমাম আর হত্যাকান্ডের শিকার শাহ পরান একই মাদ্রাসার ছাত্র এবং কাগজপুকুর গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে।

এ বিষয়ে শার্শার নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জুয়লে ইমরান জানান, আটককৃত অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক হাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানাযায়, তিনি অনেকদিন ধরে ছাত্র শাহ পরানকে সমকামিতার চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু বার বার ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে আক্রোশ মেটাতে ছাত্র শাহ পরানকে বেড়ানোর কথা বলে গত ৩১ মে শার্শার গোগা ইউনিয়নের গাজিপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাকে নিজ ঘরে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ খাটের নিচে রেখে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। ২-রা জুন ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে প্রতিবেশিরা চেয়ারম্যানকে জানায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল হতে ছাত্রের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নং-০৪, ধারা-৩০২/২০১। মামলাটির তদন্ত করেন এসআই মামুনুর রশিদ।

তিনি আরো জানান, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে আসামিকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হয়। কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করেও তাকে আটক করা যায়নি। অবশেষে বুধবার ভোরে দিঘলিয়া উপজেলার একটি কওমি মাদরাসা থেকে তাকে ছদ্মবেশে আটক করা হয়।

এদিকে এ হত্যার ঘটনায় উপযুক্ত বিচার দাবি করে আসছেন শাহ পরানের পরিবার। তারা বলেন, সততা আর আদর্শ নিয়ে মানুষ গড়ার স্বপ্নে ছেলেকে হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু সব স্বপ্ন ওই শিক্ষকের লালসার কাছে বিলীন হয়েগেছে। এই জঘন্ন হত্যাকান্ডের বিপরীতে শাহপরানের পরিবারের সদস্যরা হাফেজ হাফিজুরের ফাঁসির দাবি করেন।

এদিকে শিক্ষক হাফিজুরকে আটকের পূর্বে তার আত্মীয় স্বজনকে জিম্মি করে পুলিশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বাণিজ্য হয়েছে মর্মে এলাকায় গুঞ্জন চলে এবং কিছু সংবাদ মাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়। যা সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বলেন, আমিও শুনেছি এবং যাদের নিকট থেকে অর্থ বাণিজ্য হয়েছে বলে গুঞ্জন চলছিল, তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছি। কিন্তু কোনো ধরণের সত্যতা মেলেনি এবং কেউ বলেনি তাদের কাছ থেকে পুলিশ সদস্যরা অর্থ বাণিজ্য করেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetv24@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫