[X]
loading...

বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন.. জাতির পিতার দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো ................................. প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা

শেখ কাজিম উদ্দিন : ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন হয়েছে। বুধবার বেলা ১২টা ২২ মিনিটের সময় ঢাকার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উক্ত বেনাপোল এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ উদ্বোধনকে ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই বেনাপোল রেল স্টেশনসহ বন্দর এলাকার চারিদিকে দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে রংমেখে সংসেজে বাদ্যের তালে তালে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকেন উৎসুক জনতা। দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি বাস্তবায়ন হতে চলায় শার্শা উপজেলার বিভিন্ন  প্রান্ত থেকে ব্যানার ফেস্টুন সহকারে বর্ণাঢ্য র‌্যালীসহকারে উদ্বোধন স্থলে শরীক হয় আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীসহ উৎসুকরা। চারিদিকে সাজ সাজ রব রব, পাখির কলতনের মতো চারিদিক থেকে মানুষের ঢল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে প্রাণবান্ধব করে তোলে। 


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শেষে আমাদের ঘরে খাবার ছিল না, ব্যাংকে টাকা ছিল না, মাঠে ফসল ছিল না। পথ-ঘাট, রাস্তা-ব্রীজ-কালভার্ট ছিল ভাঙ্গা।

আমাদের ছিল ঘন বসতিপূর্ণ দেশ। যে কারণে রেল আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাহন। দূর্ভাগ্য যে বিএনপি সরকার আমলে রেল যোগাযোগকে প্রায় বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল এবং বন্ধ করে দিয়েছিল প্রায়। ১৯৯৬ সালে আমরা প্রথম সরকারে আসার পর রেলকে আলাদা মন্ত্রণালয় করে দিয়েছি। কারণ, আমাদের দেশের মানুষ যাতে আলাদা সেবা পায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমরা তাঁর স্বপ্নের সোনার  বাংলা গড়তে আমরা রেলকে আলাদা মন্ত্রণালয় করেছি। আজ জাতির পিতা আমাদের মাঝে নাই।

এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও শ্রদ্ধা লাখো শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান মন্ত্রী আরো বলেন, অজ¯্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশকে স্বাধীন করতে পেরেছি আমরা সেই সকল শহীদের রক্তের পরিবর্তে উন্নয়নের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশকে রোল মডেলের জাতিতে পরিণত করার চেষ্টা করছি। তার মধ্যে রেলকে আধুনিকায়ন করা, বৈদেশিক কেন্দ্রীক করা এবং যোগাযোগে আরো মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেকারনে আমরা সড়ক পথ, নৌ পথ, আকাশ পথ এবং রেল পথকে আলাদা মন্ত্রণালয় করে মানুষের আরো কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা-বেনাপোল রুটটি অনেক লম্বা। টঙ্গী, কুড়িল, জয়দেবপুর, বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে  ইশ^রদী, দর্শণা, পাবনা, ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ যশোর হয়ে বেনাপোল ৩৮৫ কিলোমিটার।  আমরা সরকারে এসে দুই বিভাগের সাথে রেল লাইন সংযুক্ত করে দিয়েছি। যোগাযোগ চালু করার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ হওয়ার পথে। আমরা পদ্মা ব্রীজ করছি। সম্পূর্ণ হলে পদ্মা ব্রীজের উপর দিয়ে ভাঙ্গাতে একটি জংশন তৈরি করব। পরে ফরিদপুরের সাথে যশোরের একটি লিংক রোড করে দেব। তাতে ১৮০ কিলোমিটার পথ কমবে সেসাথে সময়ও কম লাগবে। সর্ব্বপরি জাতির পিতার দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছি তখন ১৬০১ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুত দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। যা ২২হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন হলে বিদ্যুৎ দিয়েই রেল চলাচলা করা হবে বলেও জানালেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা।


একই সময় ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে বর্ধিত বিরতিহীন আর্ন্তনগর ‘বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনও উদ্বোধন করেন তিনি। প্রধান মন্ত্রী  বাঁশিতে ফু দিয়ে এবং সবুজ পতাকা উড়িয়ে ট্রেন দুটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গনভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগ দিয়ে  শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রেলমন্ত্রী নুরুল  ইসলাম সুজন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন। এছাড়া রেলপথ উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

এরপর প্রধান মন্ত্রী রেল উদ্বোধন এর পর স্থানীয় উৎসুক জনতার অভিমত জানতে চাইলে যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শওকাত হোসেন উৎসুক জনতার হাতে মাইক্রোফোন ধরিয়ে দেন। অভিমত ব্যক্ত করেন  বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী আলীজা হাছমিন গিনি। তার বক্তব্যে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আজ এই ট্রেন এর মাধ্যমে আমারা বেনাপোল বাসী যানজট মুক্ত পরিবেশে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারব। শুধু বেনাপোল নয়, দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের মানুষসহ শার্শা উপজেলার সকল মানুষ এর সুবিধা ভোগ করবে। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী কদর সাগর।

এসময় বেনাপোল রেল ষ্টেশনে প্রধান মন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন ৮৫ যশোর-১ (শার্শা)’র এমপি আলহাজ¦ শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ ঝিকরগাছা-চৌগাছার এমপি মেজর ডাঃ অধ্যপাক নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শামছুজ্জামান, বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার  বেলাল হুসাইন চৌধুরী, যশোর জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শওকাত হোসেন, যশোর পুলিশ সুপার মইনুল হক, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ নুরুজ্জামান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মন্ডল, উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) মৌসুমি জেরিন কান্তা, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের সদস্যাধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল,  বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ¦ এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ নাসির উদ্দিন, বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এ্যসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, যশোর জেলা নাগরিক অধিকার আন্দোলন কমিটির আহবায়ক নুর জালালসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ীক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর বেলা সোয়া একটায় সময় ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। তবে এই যাত্রায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামানের নের্তৃত্বে সরকারি কর্মকর্তারা ছিলেন। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১০৪টি টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানালেন বেনাপোল রেল ষ্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান। ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে ট্রেনটির চালক ছিলেন বেনজির আহম্মদ।

বেনাপোল এক্সপ্রেসে রয়েছে নতুন ১২টি কোচ, তার মধ্যে দুটি  শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। প্রচলিত সুইং ডোরের পরিবর্তে এসব কোচে রয়েছে নিরাপদ স্পাইডিং দরজা।

দেশের প্রথম  বিরোতিহীন ননষ্টপ  এই ট্রেনের অন্যতম নতুন বৈশিষ্ট্য হলো- বায়ো-টয়লেট সংযোজন। ট্রেনটিতে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের হুইল চেয়ারসহ চলাচলের সুবিধার্থে থাকছে প্রসস্থ দরজা (মেইন ও টয়লেট দরজা) এবং নির্ধারিত আসনের সুবিধা। প্রতিটি কোচ স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং অত্যাধুনিক যাত্রী সুবিধা সম্বলিত। প্রতিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে আধুনিক ও উন্নতমানের রুফ মাউন্টেড এয়ার কন্ডিশনার ইউনিট এবং এয়ার কার্টেইনের ব্যবস্থা রয়েছে।

যাত্রী সাধারণের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত চেয়ার, বার্থ, স্টেয়ার, পার্সেল রেক, টিভি মনিটর হ্যাঙ্গার, ওয়াই-ফাই রাউটার হ্যাঙ্গার, মোবাইল চার্জারের ব্যবস্থা রয়েছে। ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১২টি কোচ দ্বারা চলবে। ট্রেনটিতে এসি সিট, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শ্রেনীর সর্বমোট ৮৯৬টি (৭৯৫ নং ট্রেনের ক্ষেত্রে) এবং এসি বার্থ, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শেনীর সর্বমোট ৮৭১টি (৭৯৬ নং ট্রেনের ক্ষেত্রে) আসনের ব্যবস্থা থাকবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান পরিবহন তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ বলেন, ৮৯৬ আসনের এই ট্রেন প্রতিদিন বেনাপোল স্টেশন থেকে ছেড়ে যশোর, ঈশ্বরদী জংশন ও ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য সাময়িক বিরতি দিয়ে শেষ গন্তব্যস্থল কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে থামবে। এ ট্রেনের শোভন চেয়ারের ভাড়া ৫৩৪ টাকা, তাপানুকূল চেয়ার ১০১৩ টাকা, তাপানুকূল প্রথম শ্রেনী ১২১৩ টাকা এবং তাপানুকূল বার্থ টিকেটের দাম রাখা হয়েছে ১৮৬৯ টাকা।

তিনি বলেন, নতুন এই ট্রেনে বেনাপোল থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে আট ঘণ্টা। বেনাপোল থেকে দুপুর ১ টায় ট্রেনটি ছাড়বে আর ঢাকায় পৌঁছাবে রাত ৯ টায়। আবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বেনাপোল পৌঁছাবে। প্রতি সপ্তাহে বুধবার ট্রেনটি বেনাপোল থেকে চলাচল বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে চলাচল বন্ধ থাকবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetvnews@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫