[X]
loading...

বেনাপোলে এন্টার প্রাইজ নামের বোল্লার চাকে ঘা দেওয়ায় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা

শেখ কাজিম উদ্দিন : বেনাপোল চেকপোস্টে পাসপোর্ট যাত্রী হয়রনীর প্রতিরোধে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন এক সাড়াশি অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ এন্টার প্রাইজ ও স্টোরের বিরুদ্ধে হুসিয়ারি দিলেও এখন ভোল পাল্টে যথানিয়মে চলছে হুন্ডির কারবার। ধোয়া তুলসি পাতার ন্যায় বেনাপোল পোর্ট থানায় মুচলেকা দিয়ে হুন্ডি পাঁচার করছে তালিকা অবৈধ কারবারিরা।

গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা হতে দেড়টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘন্টার সাড়াশি অভিযানে এমপি শেখ আফিল উদ্দিন পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানী বন্ধে বেনাপোল চেকপোস্টের লেবার , কাস্টমস, পুলিশ ও  বিজিবিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। কথা বলেন চেকপোস্টে অবৈধ পন্থায় গড়ে ওঠা প্রায় তিন শতাধীক এন্টার প্রাইজ ও স্টোর নামীয় হুন্ডি পাঁচারকারি, নারী - শিশু পাঁচারকারি ও টেনে হেঁচড়ে পাসপোর্ট যাত্রীদের পাসপোর্ট, টাকা কেড়ে নেওয়া দালাল কোম্পানীর সাথে। যা শুক্রবার দৈনিক স্পন্দন পত্রিকায় চোরাকারবারিদের নামসহ প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে চোরাকারবারিরা। পরে প্রশাসনের চোখ আড়াল করতে স্বদলবলে বেনাপোল পোর্ট থানায় গিয়ে মুচলেকা দিয়ে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কারবার।

কথা হয় স্থানীয় সূধী সমাজের মানুষের সাথে। বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল চেকপোস্টে অবৈধ এন্টার প্রাইজ ও স্টোর গড়ে উঠে একেকটি দোকানে ৫-৭ জন কর্মচারি নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের কাজ থাকে পাসপোর্ট যাত্রী পরিবহন ও ট্রেন থেকে নামার সাথে সাথে যাত্রীদের ব্যাগ বা পাসপোর্ট  ধরে টেনে তাদের ঘরে নিয়ে যাওয়া। পরে নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য করে পারাপার করা। যা নিয়ে প্রতিনিয়ত পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হলেও কখনও তারা তোয়াক্কা করেনি। পাসপোর্ট যাত্রীরা দূর-দূরান্তরের দেশী-বিদেশী মানুষ হওয়ায় নিরবে ক্ষতি মেনে চলেগেছেন চোখ মুছতে মুছতে। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছেন। অনেকে আবার পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। কেউ কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠেছেন কেউ আবার অভিযোগ দিয়েই বিচার না পেয়ে চলেগেছেন। সেখানে দীর্ঘদিন পরে হলেও বেনাপোলে এন্টার প্রাইজ নামের বোল্লার চাকে ঘা দিয়েছেন স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিন। ভোটকে তোয়াক্কা না করে বোল্লার চাকে ঘা দেওয়ায় এমপি’র এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


কথা হয় বেনাপোল চেকপোস্টের কয়েক এন্টার প্রাইজ ও স্টোর মালিকের সাথে। বলেন, এমপি সাহেব হুশিয়ারি দেওয়ায় এবং দৈনিক স্পন্দনে নামসহ সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় আমরা চেকপোস্টের দোকানদাররা বেনাপোল পোর্ট থানায় মুচলেকা দিয়ে এসেছি। বলেছি পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানী করব না। এখন পূর্বের নিয়ম পাল্টে ফেলেছি। কেবল যাত্রীদের সিল মারার কাজে সরাসরি সহযোগিতা না করে তাদের পাসপোর্ট ফরম লিখে দিচ্ছি আর হুন্ডির টাকা পারাপার করছি।

তারা আরো বলেন, বেনাপোল চেকপোস্টের তিন শতাধীক এন্টার প্রাইজ ও স্টোরের অবৈধ পথে উপার্যনের টাকা প্রশাসন থেকে শুরু করে অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ খায়। যেকারণে এখানকার পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানী আর হুন্ডি পাঁচার কখনো বন্ধ হবে না।

এদিকে শুক্রবার, দৈনিক স্পন্দন পত্রিকায় বেনাপোল চেকপোস্টের প্রায় ৩০টি নারী-শিশু পাঁচারকারি ও হুন্ডি পাঁচারকারি এন্টারপ্রাইজের নাম প্রকাশিত হলে তারা বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়-ঝাপ শুরু করেছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্য (ওসি) মামুন খান বলেন বেনাপোল চেকপোস্টের এন্টার প্রাইজ ও স্টোর নামীয় ব্যবসায়ীরা থানায় এসে মুচলেকা দিয়েছে। বলেছে পূর্বের অবৈধ কর্মকান্ডের সাথে ভবিষ্যতে আর সম্পৃক্ত হবেনা। এসময় মুচলেকাওয়ালারা পূর্বের নিয়মে হুন্ডির কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামরেতর কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি আরো বলেন প্রমান পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetvnews@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫