শার্শা উন্নয়নের রুপকার শেখ আফিল উদ্দিন এমপি

শেখ কাজিম উদ্দিন : আওয়ামী লীগ সরকারের ১১ বছরে শার্শায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আর এই উন্নয়নের রূপকার সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন। স্বাধীনতার পর থেকে এ উপজেলা ছিলো উন্নয়ন বঞ্চিত। ২০০৮ সালে শেখ আফিল উদ্দিন প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এলাকার উন্নয়নে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রামকে শহরে পরিণত করার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই শুরু করেন। পরপর তিনবার নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য উন্নয়নের প্রদীপে আলোকিত করেছেন গোটা শার্শা উপজেলাকে।

১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শার্শা উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় এখন বহুতল ভবন। কাচা রাস্তা হয়েছে পাকা। উপজেলা পরিষদ চত্বরে গড়ে তুলেছেন আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন উপজেলা প্রশাসনিক ভবন, উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, আবাসিক ডরমেটরি, আধুনিক ডাক বাংলো ও উপজেলা মৎস্য ভবন। নির্মাণ করেছেন জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, বেনাপোল পোর্ট থানা ভবন, বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও কেন্দ্রীয় শহিদমিনার ।

গত ১১ বছরে তার হাতে একটু একটু করে বদলে গেছে শার্শা। উপজেলাটি আধুনিক থেকে আধুনিক হয়েছে। এ সময়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৪টি পাকা বাড়ি । ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ’র মাজার সংস্কারকরণ, ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জামতলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর সংস্করণ, ৭লাখ টাকা ব্যয়ে কাগজপুকুর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর সংস্করণ, ৪তলা বিশিষ্ট শার্শা উপজেলা কলেজ ভবন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজে ভবন ও সরকারিকরণ, পাকশি আইডিয়াল কলেজ ভবন, বেনাপোল ডিগ্রী কলেজ ভবন, গোগা ইউনাইটেড কলেজ ভবন, নাভারণ ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ ভবন, লক্ষণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, কেরালখালী-পারুয়ার ঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, পাকশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন ও কায়বা-বাইকোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হয়েছে। সরকারিকরণ করেছেন শার্শা পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়া নির্মাণাধীন আছে ৪তলা বিশিষ্ট সামটা মাদ্রাসা ভবন, বসতপুর মহিলা মাদ্রাসা ভবন, আমলাই মহিলা মাদ্রাসা ভবন ও টেংরা মহিলা মাদ্রাসা ভবন।

এছাড়া বেনাপোল পৌরসভা ১ম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ করেছেন। নির্মাণ করেছেন বহুতল বিশিষ্ট শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন, বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল, বেনাপোল বাইপাস সড়ক, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, বিদ্যুৎ, রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট ইত্যাদি। নির্মাণাধীন রয়েছে শার্শা উপজেলা বহুতল বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, বেনাপোল বড় মসজিদ।

সংস্কার করেছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের কয়েক’শ মসজিদ। জমি আছে ঘর নেই এধরণের ৩৩৩ জনের মধ্যে ১ লাখ টাকা করে অনুদান দিয়ে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। জমি আছে ঘর নেই এমন ২৩টি পরিবারের মাঝে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দুর্যোগ সহনীয় ২৩টি ঘর নির্মাণ করেছেন। যার প্রতিটি ঘর বাবদ ব্যয় হয় ২লাখ ৫১ হাজার ৫শ’ ৩১ টাকা।

বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলর কামরুন নাহার আন্না বলেন, শার্শা উপজেলার অনেক উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। পূর্বে এখানকার অনেক গ্রামে সন্ধ্যার সাথে সাথে মনে হতো ভূতের পল্লী। এখন প্রতিটি গ্রামই আলো ঝলমলে এবং গ্রামগুলো যেন শহর হয়ে গেছে। রাস্তাঘাটগুলো শুকনা মৌসুমের সময় ধুলা আর বর্ষার সময় কাদাময় বেহাল দশা ছিল। এখন প্রতিটি গ্রামেরই সংযোগ সড়কগুলো পর্যন্ত পাকা হয়ে গেছে। যা কিছু হয়েছে তার সবকিছুই হয়েছে শেখ আফিল উদ্দিন এমপির দক্ষ নেতৃত্বে।

শার্শার নাভারণ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও যশোর জেলা পরিষদের সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন, শার্শা উপজেলায় শেখ আফিল উদ্দিন এমপি যে উন্নয়ন করেছেন তা মুখে বলে বোঝানো যাবেনা। ২০০৯ সালের পূর্বের চিত্র আর এমপি হওয়ার পর কি রকম উন্নয়ন হয়েছে তা না দেখলে বোঝা কষ্টকর।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। শার্শার মাটি ও মানুষের নেতা শেখ আফিল উদ্দিন তারই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার বহু পরে হলেও এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের সুসংগঠিত নের্তৃত্বের কারণে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ১১টি চেয়ারম্যান এবং ১টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। তিনি শার্শায় যে উন্নয়ন করেছেন এগুলো তারই বহিঃপ্রকাশ।

শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন শেখ আফিল উদ্দিন এমপি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশের আলোকে তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল এবং পরীক্ষিত সহযোদ্ধা। শেখ আফিল উদ্দিন এমপি তার সকল দায়িত্ব পালনের মাঝেও তার র্নিবাচনী এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করে সরকার ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ঘোষিত সকল র্কমসূচি বাস্তবায়ন করে আসছেন। এছাড়া নিঃসন্দেহে বলা যায়. শার্শা উপজেলার নজরকাড়া উন্নয়নের রুপকার শেখ আফিল উদ্দিন এমপি। তিনি হ্যাটট্রিক এমপি। ব্যক্তি জীবনে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আপোশহীন এবং উদার মনের মানুষ তিনি। টানা তিন বার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরেও ক্ষমতার দম্ভ কখনোই তাকে স্পর্শ করেনি।

তিনি আরো বলেন নিরবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন শেখ আফিল উদ্দিন এমপি। প্রতিদানে তিনি কিছুই চান না। দিতে পেরেই আত্মতৃপ্ত হন। একজন আদর্শবান, সুশিক্ষিত, দানশীল, ন্যায়-বিচারক, গরিব ও মেহনতী মানুষের প্রকৃত বন্ধু ও আলোকিত সমাজ গড়ার কারিগর তিনি। ব্যক্তি জীবনে তিনি জাতীয় শ্রেষ্ঠ মৎস্য ও কৃষি পদক পেয়েছেন। ব্যক্তি আচরণ আর সততার মধ্যে দিয়ে অতি অল্প সময়ে উপজেলাবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। সত্য আর সততা থাকলে যে একজন মানুষ কতদূর এগোতে পারেন শেখ আফিল উদ্দিন তারই নিদর্শন।

শেখ আফিল উদ্দিন এমপি বলেন, বর্তমান সরকার জনগনের র্স্বাথে ও জনগনের উন্নয়নে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এলাকার মানুষেরা টিভিতে দেখেছেন সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য যশোর-বেনাপোল রাস্তার দাবি করেছিলাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি রাস্তাটি দেয়ার জন্য। আমি বলব না যে আমি সব কিছু করতে পেরেছি তবে এলাকার উন্নয়নের জন্য সব সময় চেষ্টা করেছি আগামীতেও করবো। এছাড়া এলাকার কি উন্নয়ন হয়েছে সেটা এলাকার সাধারণ জনগণই বলবে।

তিনি আরো বলেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বর্তমান সকারের একটি অন্যতম বৃহত্তম এজেন্ডা ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলার সকল গ্রামে, পাড়ায় মহলায় বিদ্যুৎ সংযোগ শেষ পর্যায়ে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মাঠ এলাকায় নতুন নতুন কিছু বাড়ি তৈরি হওয়ায় দূরদূরান্তের কারণে হয়তোবা কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে না পারে। তাও প্রত্যেক এলাকায় মাইকিং করে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগের জন্য ব্যপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে সমগ্র শার্শা উপজেলাকে ১০০% বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetvnews@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫