বেনাপোল সীমান্ত পথে চলছে মানব পারপারের রমরমা ব্যাবসা::মরণঘাতী করোনা ঝঁকিতে সীমান্তবাসী

শেখ কাজিম উদ্দিন : বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে উৎকন্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যে বিরাজমান ঠিক তখনি যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত পথে চলছে মানব পারপারের রমরমা ব্যাবসা। সর্বশেষ গত ১৫ মার্চ ভারতের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক করোনা ভাইরাসকে মহামারী ঘোষণা করায় নতুন করে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সীমান্তের কয়েকটি মানব পারাপারকারি চক্র অবৈধ সীমান্ত পথে সুযোগ বুঝে জন প্রতি ৮/১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারত-বাংলাদেশ মানব (ধূঢ়) পারাপার করছে। তাই যেকোন মুহুর্তে সীমান্তবাসীকে করোনা ভাইরাস গ্রাস করতে পারে বলে আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন সীমান্তের অধিকাংশ জনবসতি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনাপোল পোর্ট থানার সীমান্তবর্তী গ্রাম বড়আঁচড়া, গাতিপাড়া, দৌলতপুর ও পুটখালী এলাকার কয়েক বাসিন্দা জানান, পুলিশ-বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন সীমান্তের একটি মানব পাঁচারকারি চক্র এসকল সীমান্ত ব্যবহার করে ভারত-বাংলাদেশ নারী-পুরুষ ও শিশু পারাপার করছে। জনপ্রতি ৮/১০ হাজার টাকা উপার্যন হওয়ায় তারা জাতীয় মহামারী করোনা ভাইরাসকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রতিদিনি মানব পারাপারের এ রমরমা বার্ণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

সীমান্তের গ্রামবাসীরা আরো জানান, চক্রটির সদস্যরা নিজেরাও জানেনা যে বাড়তি আয়ের লোভে তারা প্রানঘাতী করোনা ভাইরাস বহন করে আনছেন দেশের অভ্যান্তরে। যা তাদের পরিবারের জন্য যেমন মরণাস্ত্র তেমনি সীমান্তবাসীর জন্য তা খুবই ভয়ঙ্কর।

অনেকে আবার দ্বায়ী করছেন সীমান্তের বিজিবিসহ পুলিশ প্রশাসনের। বলেন, এসকল বাহিনী নিরব কেন? ভারত সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারি নারী-পুরুষ ও শিশুরা কিছু সময় ধরে অবস্থান করে এলাকাগুলির বাড়ী-ঘরে। পরে ইজিবাইক ও মটর সাইকেলযোগে বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছাচ্ছে। যা এলাকার সাধারণ মানুষ দেখলেও পুলিশ-বিজিবি দেখছেন না কেন?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মানব পারাপার কাজে জড়িত এক দালাল জানান, সম্প্রতি ভারত সরকার ইন্ডিয়ান ভিসা বন্ধ করে দেওয়ায় সীমান্তের চোরাই পথে লোক (ধূঢ়) পারাপার বেড়েছে। অজ্ঞাত কারণে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা ভারত হতে লোক আসতে বাধা দিচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ হতে লোক নেওয়ার সময় কোন কোন ক্ষেত্রে ফেরত দিচ্ছে বিজিবি সদস্যরা। দু’দেশের ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী যাতায়াতে যেমন লম্বা লাইন দেওয়া হতো তদ্রুপ সীমান্তের মানব পারাপার সিন্ডিকেট প্রক্রিয়ায় সীমান্ত পারাপারেও লাইন দিতে হচ্ছে। যা দৌলতপুর, পুটখালী ও গাতিপাড়া সীমান্তের স্থানীয় গ্রামবাসী ও চা দোকানদারদের সাথে কথা বললে জানাযাবে যে প্রতিদিন কি পরিমাণের অবৈধ পারাপার হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাড়া সীমান্তের সচেতন নাগরিক আমিনুর রহমান করোনা আতঙ্কে আধো আধো বোলে খুব আক্ষেপের সহিত বলেন, প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে নারী-পুরুষ-শিশু পারাপার হচ্ছে। গ্রামে অবস্থান করছে। সময় বুঝে মটরসাইকেল ও ইজিবাইকযোগে বেনাপোল বাজারে গিয়ে বাস ও রেলযোগে গন্তব্য স্থানে চলে যাচ্ছে। এতে সীমান্তবাসী যেমন মরণঘাতী করোনা আতঙ্কে ভুগছে তেমনি বাস ও ট্রেনে করে এসব অবৈধ পারাপারকারিরা করোনা ভাইরাস ছড়াতে ছড়াতে যাচ্ছে। আপনাদের কতো টাকা দরকার? এদের বিরুদ্ধে লিখছেন না কেন? মানুষের জীবনের চাইতে কি টাকার মূল্য অনেক বেশি? সিন্ডিকেট মালিক ও ধূঢ়ের দালালরা আপনাদের কতো টাকা দেয়? এভাবে মনের কস্টে আর করোনা আতঙ্কে  অনেক কথাই বললেন তিনি।

এ বিষয়ে খোজখবর নিতে সীমান্তের মানব পারাপারকারি কয়েকটি ধূঢ় সিন্ডিকেট তথা মানব পারাপারকারিদের নাম পাওয়া যায়। এরা হলো- রাজাপুর গ্রামের আনিছুর রহমান ওরফে কালো আনিচ, নামাজগ্রামের চিত্র, বড়আঁচড়ার ছোট আনিচ, অশোক, বজু, কার্ত্তিক, গাতিপাড়ার মিজান, তবি, হাফিজুর, মন্টুসহ অনেকে।

এ বিষয়ে ২১বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মঞ্জুর ই এলাহীর মুঠোফোনে অবৈধ পারাপার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আপনারা প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য দিয়ে সহোযোগীতা করলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিবো।

এ বিষয়ে যশোরের নাভারণ সার্কেল এএসপি জুয়েল ইমরান জানান, মহামারী করোনা ভাইরাস বিস্তর প্রতিরোধে এ এলাকায় পুলিশ প্রশাসন কঠোর ভূমিকায় রয়েছে। তবে, সীমান্ত পারাপার হওয়ার বিষয়টি কেবল বিজিবির এখতিয়ার। কোন মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে এসে স্বাভাবিক ভাবে এলাকায় ঘোরাফেরা করলে আমাদের জন্য করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা কঠিন হবে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

[X]
অফিস ॥ ৯২ আরামবাগ, ক্লাব মার্কেট, মতিঝিল। ই-মেইল ॥ banglaonlinetvnews@gmail.com
প্রকাশক মোঃ রাসেল জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটি রেজিঃ নং: ঢ_০৮৮৩৭
অনলাইন নিতীমালা মেনে আবেদন কৃত সম্পাদক॥ রাজু আহমেদ অনুমোদিত নাম্বার ০৫/৯৩১৭০২৬৫